নিসের ছুরি হামলার পর এবার লিওঁ-য় বন্দুক হামলা। ফরাসি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার লিওঁ শহরে এক গ্রীক অর্থোডক্স চার্চের প্রিস্টকে গির্জার সামনেই গুলি করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত্য়ুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি। এই হামলার পরই ওই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী ওই এলাকা থেকে পালিয়ে গেলেও, লিওঁ পুলিশ পরে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। কী উদ্দেশ্যে এই হামলা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

জানা গিয়েছে ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকাল চারটের সময়। সেই সময় চার্চটি বন্ধ করা হচ্ছিল। ওই প্রিস্ট-কে দুবার খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। অন্য এক সূত্র দাবি করেছে একটি শিকার করার রাইফেল দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। গুলি লাগে ওই প্রিস্টের পেটে। আপাতত স্থানীয় হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পরপরই ফরাসী পুলিশ আক্রমণকারীকে সনাক্ত করতে ও তাকে পাকড়াও করার জন্য জোর তল্লাশি চালায়। লিওঁ-র পাবলিক প্রসিকিউটর নিকোলাস জ্যাকেট জানিয়েছেন, "প্রাথমিক সাক্ষীদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা এক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে গ্রেফতারের সময় ওই সন্দেহভাজনের সঙ্গে কোনও অস্ত্র ছিল না।

ফরাসী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও টুইট করে এই হামলার কথা জানানো হয়েছে। জাঁ-ম্যাকের সেক্টরের এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে তারা। ওই এলাকাটি আপাতত ঘিরে রেখেছে ফরাসী পুলিশ। কোনও ব্যক্তিকে সেই নিরাপত্তা পরিধি-র মধ্যে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

এই নিয়ে গত ৭২ ঘন্টায় ফ্রান্সের দুই শহরে দুটি চার্চে হামলা হল। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই নিস শহরের আরেক গির্জায় এক মহিলার শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল এবং আরও দুজনকে হত্যা করা হয়েছিল। তার আগে অক্টোবর মাসের শুরুতে প্যারিসের শহরতলিতে স্যামুয়েল প্যাটি নামে এক স্কুলশিক্ষকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাসরুমে হজরত মহম্মদের ব্যঙ্গচিত্র দেখানোর অভিযোগ ছিল। ওই ঘটনায় চেচনিয়া থেকে আসা এক ১৮ বছরের যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনার পর ইসলামি চরমপন্ধথীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ।