আকারে পেনসিলের থেকে বড় নয়চোখের সমনেই লুকিয়ে থাকতে পারেসাপেদের মধ্যে সদস্য সংখ্যা সবচেয়ে কমআবিষ্কার হল নতুন প্রজাতির এক সাপ

ডারউইনের বিবর্তনবাদ আবিষ্কারের পর বহু বছর কেটে গিয়েছে। বিস্ময়কর হল, এখনও এই পৃথিবীতে নতুন নতুন প্রজাতির প্রাণী আবিষ্কার হয়ে চলেছে। আর তা বেশিরভাগ সময়ই ঘটে বেশ আচম্বিতে। একেবারে সামনে থাকলেও অনেক সময় দেখতে পওয়া যায় না। যেমন, সম্প্রতি ফিলিপাইন্স-এ একেবারে নতুন এক প্রজাতির সাপ আবিষ্কৃত হয়েছে। অথচ, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই সর্প একেবারে চোখের সামনেই লুকিয়ে থাকে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই নতুন প্রজাতিটি একেবারে হঠাৎ করেই আবিষ্কার করেছেন ক্যানসাসের জীববৈচিত্র্য ইনস্টিটিউটের স্নাতক, সহকারী গবেষক জেফ ওয়াইনেল। ইনস্টিটিউটের জীববৈচিত্র্য সংকলনে সংরক্ষিত তিনটি সাপের নমুনা অধ্যয়ন করতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন, এই সরীসৃপগুলি একেবারে নতুন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। জানা গিয়েছে, ওই সাপ তিনটি সংগ্রহ করা হয়েছিল, ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে। তারপর থেকে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়েই সকলের অগোচরে থেকে গিয়েছিল সেগুলি। ওয়াইনেল জানিয়েছেন, এই সাপগুলি শুধু যে নতুন প্রজাতির তা নয়, একেবারে সম্পূর্ণ নতুন জেনাস বা বংশধারারও বটে।

Scroll to load tweet…

তিনি জানিয়েছেন, সাপ তিনটি জেনাস বা বংশ হল 'লেভিটোনিয়াস' এবং প্রজাতির নাম 'লেভিটোনিয়াস মিরাস'। এই সাপগুলির আকার পেন্সিলের মতো। সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছে ১৭২ মিলিমিটার। একেবারে চোখের সামনে থেকও লুকিয়ে থাকতে পারে তারা, এতটাই ভালো ছদ্মবেশ ধারণের ক্ষমতা। ফিলিপাইন্স-এর সমর এবং লেয়েট দ্বীপেই এই লেভিটোনিয়াস মিরাস সাপ দেখা যায়। বিশ্বের সব সর্প-প্রজাতির মধ্যে এই সাপটির সদস্য সংখ্যাই সবচেয়ে কম।

কিন্তু, কীভাবে বোঝা গেল, এরা একেবারে নতুন বংশের? জেফ ওয়াইনেল বলেছেন, এই সাপগুলি আগে সিউডোরাব্ডিয়ন বংশের হিসাবে চিহ্নিত ছিল। তিনি সেই গোষ্ঠীর একগুচ্ছ নমুনার ডিএনএ সিকোয়েন্স করছিলেন। তার ফলাফল হাতে পেয়ে তিনি দেখেছিলেন ওই সাপগুলির ডিএনএ সিকেয়োন্স আলাদা। ভেবেছিলেন, তাঁর পক্ষ থেকে কোনও ত্রুটি হয়েছে কিংবা নমুনাগুলি দূষিত ছিল। কিন্তু, মলিকুলার ডেটা হাতে পাওয়ার পর তাঁর ভুল ভাঙে। তিনি দেখেছিলেন এই নতুন বংশটির মাইয়ারোসফিস এবং অক্সিরহাবডিয়াম গোষ্ঠীর সাপদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগত মিল থাকলেও, আদতে সমস্ত ট্যাক্সার থেকে পৃথক।