বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলে বন্দি রয়েছেন ২৩৮ জন ভারতীয় নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ১৬৮ জনের কারাবাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনও দেশে ফেরা হয়নি। জাতীয়তা যাচাই এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় বিলম্বের জেরেই তাঁদের বন্দিদশা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলে বন্দি রয়েছেন ২৩৮ জন ভারতীয় নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ১৬৮ জনের কারাবাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনও দেশে ফেরা হয়নি। জাতীয়তা যাচাই এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় বিলম্বের জেরেই তাঁদের বন্দিদশা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে। বাংলাদেশের জেলগুলিতে বর্তমানে ১৫টি দেশের মোট ৪০৭ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৪ জন দণ্ডিত, ১৯১ জন বিচারাধীন এবং ১৭২ জনের সাজা শেষ হয়েছে অথবা মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়েছে। কিন্তু দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা সম্পূর্ণ না হওয়ায় তাঁদের জেলেই থাকতে হচ্ছে।

ভারতীয় বন্দিদের প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের দেওয়া তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ১২১ জন বন্দি ভারতীয় বলে শনাক্ত করে ভারতের কাছে পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের সাজা শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই বন্দিদের অধিকাংশের ব্যক্তিগত তথ্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ভারতীয় হাই কমিশন বন্দিদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পরিচয় যাচাই করার অনুমতি চেয়েছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলেও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

হাই কমিশনের হিসাবে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ২৫ জন

বাংলাদেশের জেলে সাজা শেষ করা ভারতীয়দের মধ্যে ২৫ জনের নাগরিকত্ব ইতিমধ্যেই যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের হাই কমিশন। তাঁদের দেশে ফেরানোর অপেক্ষা চলছে। হাই কমিশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রককে দ্রুত প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে, সে জন্য প্রত্যর্পণের সম্ভাব্য তারিখ আগাম জানানোরও আবেদন করা হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তালিকায় ১২১ জনের নাম থাকলেও তাঁদের সবার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যদিকে, ভারতীয় হাই কমিশনের হিসাবে ২৫ জনের পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে মায়ানমারের নাগরিকরা

বাংলাদেশের জেলগুলিতে বিদেশি বন্দিদের মধ্যে সংখ্যার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মায়ানমারের নাগরিকরা। তাঁদের সংখ্যা ১৩৩। এঁদের মধ্যে মাত্র একজনের সাজা শেষ হয়েছে এবং তিনি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের জেলে রয়েছেন নাইজেরিয়ার ছয়জন, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার তিনজন করে বন্দি। তানজানিয়া ও পেরুর দু’জন করে নাগরিকও বন্দি রয়েছেন। জর্জিয়া, বাহামা, বেলারুশ, গায়ানা, কঙ্গো, ইথিওপিয়া এবং থাইল্যান্ডের একজন করে নাগরিক রয়েছেন জেলে।

কী ধরনের অভিযোগে বন্দি বিদেশিরা?

বাংলাদেশের জেলগুলিতে বন্দি বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, সোনা চোরাচালান, প্রতারণা, জাল ডলারের কারবার, পাসপোর্ট সংক্রান্ত অপরাধ, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং মানব পাচারের মতো অভিযোগ রয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিদেশি বন্দিদের সাজা শেষ হওয়ার পরেও দীর্ঘদিন আটকে রাখার ফলে প্রশাসনিক সমস্যা বাড়ছে। তাঁদের জন্য আলাদা সেলের ব্যবস্থা করতে হয়। নিরাপত্তার কারণে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাইরের অংশে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারিও চালানো হয়। বন্দিদের পরিচয় যাচাই এবং দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ায় বাংলাদেশের সরকারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝাও তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেল আধিকারিকরা।