- Home
- World News
- International News
- Titanic Lifejacket: টাইটানিকের বেঁচে যাওয়া যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে উঠল, কত দামে-কে কিনল?
Titanic Lifejacket: টাইটানিকের বেঁচে যাওয়া যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে উঠল, কত দামে-কে কিনল?
টাইটানিক ডুবে যাওয়ার সময় একটি লাইফবোটে চড়ে জাহাজটি থেকে পালিয়ে আসা এক যাত্রীর পরিহিত একটি লাইফ জ্যাকেট শনিবার নিলামে ৬,৭০,০০০ পাউন্ডে (প্রায় ৮.৩৯ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছে।

টাইটানিক ডুবে যাওয়ার সময় একটি লাইফবোটে চড়ে জাহাজটি থেকে পালিয়ে আসা এক যাত্রীর পরিহিত একটি লাইফ জ্যাকেট শনিবার নিলামে ৬,৭০,০০০ পাউন্ডে (প্রায় ৮.৩৯ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছে। এই ভাসমান সুরক্ষা-বস্তুটি পরিধান করেছিলেন সেই অভিশপ্ত জাহাজের প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাটেলি। এতে তাঁর এবং একই লাইফবোটে থাকা অন্যান্য জীবিত যাত্রীদের স্বাক্ষর রয়েছে।
পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডেভাইজে অবস্থিত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান 'হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন'-এর আয়োজিত টাইটানিক-স্মারক সামগ্রীর নিলামে এটিই ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্তু। নিলাম-পূর্ববর্তী সময়ে এর আনুমানিক মূল্য ২,৫০,০০০ থেকে ৩,৫০,০০০ পাউন্ড ধরা হলেও একজন অজ্ঞাতপরিচয় টেলিফোন-বিডারের কাছে এটি সেই অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়।
একই নিলামে টাইটানিকের একটি লাইফবোটের একটি আসনের কুশন ৩,৯০,০০০ পাউন্ডে (৫,২৭,০০০ ডলার) বিক্রি হয়। এটি কিনে নেন টেনেসির পিজন ফর্জ এবং মিসৌরির ব্র্যানসনে অবস্থিত দুটি টাইটানিক জাদুঘরের মালিকরা। এই বিক্রয়মূল্যের মধ্যে 'বায়ার্স প্রিমিয়াম' নামে পরিচিত নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের একটি ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, "এই রেকর্ড-ভাঙা দামগুলো টাইটানিকের কাহিনি ঘিরে মানুষের অব্যাহত আগ্রহ এবং সেই সব যাত্রী ও ক্রুদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধেরই প্রতিফলন, যাঁদের কাহিনি এই স্মারক সামগ্রীগুলোর মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করেছে।"
বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল সমুদ্রগামী জাহাজ টাইটানিক ইংল্যান্ড থেকে নিউ ইয়র্কে তার প্রথম সমুদ্রযাত্রার সময় নিউফাউন্ডল্যান্ডের অদূরে একটি হিমশৈলের (আইসবার্গ) সঙ্গে ধাক্কা খায়। ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজে থাকা ২,২০০ জন যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে প্রায় ১,৫০০ জনই প্রাণ হারান। টাইটানিক আজও বিশ্বজুড়ে মানুষের কৌতূহল ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। এর অন্যতম কারণ হল জাহাজে থাকা যাত্রীদের বৈচিত্র্য, যাদের মধ্যে ছিলেন একেবারে নিঃস্ব দরিদ্র থেকে শুরু করে বিত্তশালী ধনকুবের পর্যন্ত সব শ্রেণির মানুষ।
ফ্রাঙ্কাটেলি তাঁর নিয়োগকর্তা—ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন—এবং লুসির স্বামী কসমো ডাফ গর্ডনের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তাঁরা তিনজনই জাহাজের ১ নম্বর লাইফবোটে চড়ে প্রাণে বেঁচে যান। ৪০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই লাইফবোটটি মাত্র ১২ জন যাত্রী নিয়ে জলে নামানো হয়েছিল। হিমশীতল জলে ভাসমান অন্যান্য জীবিত যাত্রীদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই লাইফবোটটি পরবর্তীকালে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
টাইটানিক-সংক্রান্ত কোনও স্মারক বস্তুর নিলামে ওঠা সর্বোচ্চ দাম হল ১.৫৬ মিলিয়ন পাউন্ড (তৎকালীন সময়ে যা প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার)। ২০২৪ সালে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল একটি সোনার পকেট ঘড়ির বিনিময়ে, যা টাইটানিকের বেঁচে যাওয়া ৭০০ যাত্রীকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘আরএমএস কার্পাথিয়া’-র ক্যাপ্টেনকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।