America News: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতের হাতে ফিরল ৬৫৭টি প্রাচীন প্রত্নবস্তু। কাদের কাছে ছিলো এইগুলি? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

America News: আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার। (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১৭ কোটি টাকা) মূল্যের ৬৫৭টি প্রাচীন প্রত্নবস্তু ভারতের হাতে ফিরিয়ে দিল আমেরিকার ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অমূল্য সম্পদগুলি ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন এল ব্র্যাগ জুনিয়র আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রত্নবস্তুগুলি প্রত্যর্পণের ঘোষণা করেন। ভারতের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল রাজলক্ষ্মী কদম।

ভারতের হাতে ফিরল পুরাত্বাত্তিক সম্পদ:-

ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিল্পবস্তু পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে চালানো একাধিক দীর্ঘমেয়াদী তদন্তের পর এই প্রত্নবস্তুগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৬৫৭টি প্রত্নসামগ্রীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম।

আন্তর্জাতিক শিল্পবস্তু পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল তদন্তকারী সংস্থাগুলো। কুখ্যাত পাচারকারী সুভাষ কাপুর এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামী ন্যান্সি উইনারের অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের ওপর দীর্ঘকালীন তদন্ত চালিয়ে কয়েকশ মূল্যবান প্রাচীন নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে।

সম্প্রতি একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া এই ৬০০-রও বেশি পুরাকীর্তি ভারত সরকারের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তাদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ শিল্পবস্তু উদ্ধার হওয়া ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পদ চুরির ভয়াবহতাকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এল।

উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তুগুলো মূলত সুভাষ কাপুর ও ন্যান্সি উইনারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছিল।

একক অভিযানে এত বিপুল সংখ্যক পুরাকীর্তি উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে বিরল।

ভারত থেকে পাচার হওয়া এসব অমূল্য সম্পদ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন তদন্তের ফসল।

ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং প্রত্নসম্পদ পাচারের জাল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বিশাল বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ অ্যালান ব্র্যাগ। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সুরক্ষায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ব্র্যাগ বলেন, "ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হানার লক্ষ্যে যে পাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় রয়েছে, তাদের নেটওয়ার্ক বা পরিধি অভাবনীয়ভাবে বিশাল।" তিনি আরও জানান যে, বিগত দশকগুলোতে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ প্রাচীন মূর্তি, পাণ্ডুলিপি এবং বহুমূল্য শিল্পকর্ম অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার করা হয়েছে। পাচার হওয়া এই সম্পদগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। ব্র্যাগ মনে করেন, শুধু পাচার ঠেকানোই যথেষ্ট নয়, বরং বিদেশের মাটিতে থাকা ভারতীয় ঐতিহ্যগুলোকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আরও সমন্বিত এবং জোরালো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।