NASA-র আর্টেমিস ২ মিশনের মহাকাশচারীরা সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন এবং এখন চাঁদের দিকে যাত্রা করছেন। ওরিয়ন মহাকাশযানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ 'ট্রান্সলুনার ইনজেকশন বার্ন' সম্পন্ন করেছে, যা অ্যাপোলো যুগের পর এই প্রথম কোনও মনুষ্যবাহী যানকে চাঁদের পথে পাঠাল।

অবশেষে পৃথিবীর মায়া কাটালেন ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NASA)-এর আর্টেমিস ২ মিশনের মহাকাশচারীরা। শুক্রবার পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে চাঁদের দিকে রওনা দিয়েছে তাঁদের মহাকাশযান। গভীর মহাকাশ গবেষণায় মানবজাতির প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

NASA জানিয়েছে, ওরিয়ন মহাকাশযানটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'ট্রান্সলুনার ইনজেকশন বার্ন' সফলভাবে শেষ করেছে। এর জন্য মহাকাশযানটির মূল ইঞ্জিন প্রায় ছয় মিনিট ধরে চালু ছিল। এই বার্নের ফলেই যানটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটিয়ে চাঁদের দিকে যাওয়ার সঠিক পথে চালিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬,০০০ পাউন্ড থ্রাস্ট তৈরি হয়, যা যানটিকে পৃথিবীর নিকটতম মহাজাগতিক প্রতিবেশীর দিকে নিখুঁতভাবে এগিয়ে দিয়েছে।

NASA নিশ্চিত করেছে যে আর্টেমিস ২ মিশন ম্যানেজমেন্ট টিম সর্বসম্মতিক্রমে এই বার্নের জন্য সবুজ সঙ্কেত দেয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সময় লাগে ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড। এই সফল অভিযানের পরেই মহাকাশচারীরা চাঁদের চারপাশে ঘোরার পথে পা বাড়িয়েছেন। ১৯৭২ সালের ঐতিহাসিক অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এই প্রথমবার মানুষ চাঁদের দিকে যাত্রা করল।

NASA-র প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে লেখেন, "ট্রান্সলুনার ইনজেকশন বার্ন সফলভাবে শেষ হয়েছে। আর্টেমিস ২-এর অভিযাত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদের পথে রওনা দিয়েছেন।" তিনি আরও বলেন, “আমেরিকা আবার চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর খেলায় ফিরে এসেছে। আর এবার আগের চেয়েও অনেক দূরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।”

এই মিশনে রয়েছেন NASA-র মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। মহাকাশে তাঁদের প্রথম পুরো দিনটা শুরু হয় রুটিন কাজকর্ম দিয়ে। ইঞ্জিনের বার্নের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং মহাকর্ষহীন অবস্থায় শরীর ঠিক রাখতে ব্যায়াম করার মতো কাজগুলো সারেন তাঁরা। মিশন কন্ট্রোল থেকে 'গ্রিন লাইট' গানটি বাজিয়ে মহাকাশচারীদের দিন শুরু করা হয়, যা এই গুরুত্বপূর্ণ দিনের জন্য একটি দারুণ সূচনা ছিল।

ওরিয়ন মহাকাশযানের সার্ভিস মডিউল ইঞ্জিনটি শক্তিশালী, যা যানটিকে চাঁদের দিকে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গতি দিয়েছে। এই চন্দ্রাভিযানের মাধ্যমে ভবিষ্যতের মিশনগুলির জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলি পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে NASA-র আর্টেমিস প্রোগ্রামের অধীনে চাঁদের মাটিতে নভোচারীদের অবতরণ করানোর মতো লক্ষ্যও রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড ৩৯বি থেকে NASA-র স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটে চেপে আর্টেমিস ২ মিশন সফলভাবে লঞ্চ করা হয়। ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর এটিই প্রথম মনুষ্যবাহী চন্দ্রাভিযান।

চাঁদের চারপাশে ঘোরার পর, প্রায় ১০ দিনের এই মিশন শেষে অভিযাত্রীরা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। প্রশান্ত মহাসাগরে স্প্ল্যাশডাউনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মিশনের সমাপ্তি ঘটবে।