Birth Rate: ভারতে জনসংখ্যা নিয়ে যখন এত চিন্তা, তখন সিঙ্গাপুরের ছবিটা পুরো উল্টো। সেখানে জনসংখ্যা কমতে থাকায় চিন্তায় সরকার। এই সমস্যা মেটাতে প্রত্যেক শিশু জন্মালে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা ইনসেন্টিভ এবং আরও অনেক সুবিধার ঘোষণা করেছে সিঙ্গাপুর সরকার।
Birth Rate: ভারতে জনসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রায়ই তাঁর ভাষণে ১৪০ কোটি দেশবাসীর কথা বলেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পরিবারে অনেক বেশি সন্তান থাকায় এই সংখ্যাটা ১৫০ কোটি ছুঁয়েছে। তবে উল্টোদিকে, আজকাল ভারতে হিন্দুদের মধ্যে সন্তান কম নেওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেরিয়ার নিয়ে ব্যস্ত, কেউ বা ভাবছেন সন্তানের দেখাশোনা কে করবে। আবার কারও চিন্তা, সন্তান হলে সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। এর ফলে অনেক হিন্দু পরিবারে এখন বড়জোর দুই সন্তান দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা চলতে থাকলে ভারতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে।
একই রকম পরিস্থিতি সিঙ্গাপুরে
সিঙ্গাপুরেও ঠিক একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই কারণে পরিবারগুলিকে আরও বেশি সন্তান নিতে উৎসাহ দিতে সিঙ্গাপুর সরকার একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। ফার্টিলিটি রেট বা জন্মহার কমতে থাকায় এবং জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় দেশটা রীতিমতো চিন্তায় পড়েছে। তাই সরকার ঘোষণা করেছে, প্রত্যেক শিশু জন্মালে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা (৫৫,০০০ ডলার) দেওয়া হবে। কারণ, সিঙ্গাপুর এখন বিশ্বের অন্যতম 'বয়স্ক' দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে তরুণদের সংখ্যা দ্রুত কমছে।
প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং-এর ঘোষণা-
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং তাঁর বার্ষিক ন্যাশনাল ডে র্যালির ভাষণে সন্তানের জন্ম এবং পেরেন্টাল লিভ বা পিতামাতার ছুটি সংক্রান্ত নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, সরকার চায় সিঙ্গাপুরের যে সব নাগরিক পরিবার শুরু করতে বা বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য পথটা আরও সহজ করে দিতে। সরকার ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য একাধিক নিখরচায় সুবিধার কথাও ঘোষণা করেছে। এই সময় পর্যন্ত শিশুদের 'সরকারের সন্তান' হিসেবে গণ্য করা হবে।
প্রায় ৬০ লক্ষের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশ সিঙ্গাপুরে গত বছর প্রতি মহিলার সন্তান জন্ম দেওয়ার হার ছিল ০.৮৭, যা ২০২৪ সালের ০.৯৭ থেকে কমে গিয়েছে। এই হার বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার (০.৮) খুব কাছাকাছি। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে জন্মহার ২.১ হওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে দেশের ২১ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বা তার বেশি, সেই দেশকে 'বয়স্ক' দেশ বলা হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন এই বয়সের সীমায় পৌঁছে যাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ওং বলেন, "আমরা প্রত্যেক পরিবারকে জানাতে চাই যে, আপনারা যদি সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সরকার আপনাদের পাশে থাকবে।" তিনি আরও জানান, সিঙ্গাপুর এবার থেকে পেরেন্টাল লিভের সুবিধা আরও বাড়াবে, বিশেষ করে যে পরিবারে বেশি সন্তান রয়েছে তাদের জন্য। এর জন্য সংস্থাগুলির উপর যে অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপবে, তার বড় অংশ সরকার বহন করবে। তিনি আরও বলেন, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার শিশুদের সঙ্গে থাকা পরিবারগুলির জন্য প্রথম বাড়ি কেনা আরও সহজ করে দেবে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


