পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের তলদেশের গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভিডিও কল, ব্যাঙ্কিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বিশ্বকে এক বড় বিপদের মুখে ফেলবে।

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে গোটা বিশ্বজুড়ে চলছে তেল এবং গ্যাসের সংকট। দেশের প্রতিটি প্রান্তে রান্না গ্যাস বা এলপিজির জন্য তৈরি হয়েছে হাহাকার। আমেরিকা ও ইজরায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পা দিতেই আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই অবস্থায় জ্বালানির পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়ছে ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়েও।

এর কারণ হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে গোটা বিশ্বে ইন্টারনেট পরিষেবা চালানোর জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন কেবল নেটওয়ার্ক। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সেই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর জেরে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হবে।

হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেবল গিয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ পরিচালনা করা হয়। এর দ্বারা ভিডিও কল, ফেসবুক, ইমেল এমনকি ব্যাঙ্কিং লেনদেন হয়। এই লোহিত সাগরের নিচে কম করে ১৭ বা তার বেশি সাবমেরিন কেবল আছে। অন্যদিকে হরমুজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একাধিক কেবল। এর গ্বারা ভারতের বৈদেশিক ডেটা সংযোগ হয়।

বিশেষজ্ঞের মতে, যুদ্ধের কারণে যদি হরমুজ বা লোহিত সাগরের নিচে থাকা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে গ্লোবাল কমিউনিকেশন ক্রাইসিস দেখা যাবে। এমনকি এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তীতে মেরামত করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। এর ফলে বড় বিপদের মুখে পড়তে চলেছে গোটা বিশ্ব। এমনই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এদিকে আবারডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বাইডেন আমলের এক শীর্ষ কর্তা ড্যানিয়েল বেনাইম। তাঁর মতে, মার্কিন-ইজরায়েল হামলার পর ইরান কী প্রতিক্রিয়া দেবে, তা নিয়ে ট্রাম্পের "হিসেব ভুল ছিল"। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ভেবেছিলেন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ভেনেজুয়েলার মতো ইরানও নতিস্বীকার করবে, কিন্তু এখানেই তিনি তেহরানের মানসিকতা বুঝতে ভুল করেন।