Chinese History: চিনের প্রাচীরের ওপারেও কি ছিল বিশাল সব হিন্দু মন্দির? কোয়ানঝু শহরের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ থেকে হংকং-এর আধুনিক মন্দির, চ্নের বুকে হিন্দু ঐতিহ্যের এক রোমাঞ্চকর অজানা ইতিহাস জানুন এই প্রতিবেদনে।

China Mystery: চিনের ড্রাগন সাম্রাজ্যেও যে একসময় বিশাল হিন্দু মন্দির ছিল, তার ইতিহাস সত্যিই চমকপ্রদ। দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দীতে, বিশেষ করে কুয়ানঝো (Quanzhou) বন্দরে দক্ষিণ ভারতীয় হিন্দু বণিকরা একাধিক বিশাল হিন্দু মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। শিব ও বিষ্ণুর উপাসনা করা এই মন্দিরগুলোতে শৈব ও বৈষ্ণব স্থাপত্যের মিশ্রণ ছিল।

চিনের বুকে হিন্দু মন্দিরের ইতিহাস:

  • সময়কাল: চোল রাজবংশ এবং তার পরবর্তী সময়ে (Song এবং Yuan Dynasty) চীন ও ভারতের মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্যের সময়, দক্ষিণ ভারতীয় বণিকরা দক্ষিণ চিনের কুয়ানঝোতে বসতি স্থাপন করেন।
  • অবস্থান: দক্ষিণ চিনের কুয়ানঝো, যা প্রাচীনকালে একটি প্রধান বন্দর ছিল, সেখানে এক ডজনেরও বেশি হিন্দু মন্দির বা শিবালয় ছিল বলে গবেষকরা মনে করেন।
  • স্থাপত্য ও স্থাপত্য শৈলী: এই মন্দিরগুলি দক্ষিণ ভারতীয় (দ্রাবিড়) শৈলীতে নির্মিত হয়েছিল এবং স্থানীয় চিনা সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।
  • প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ: কুয়ানঝো মেরিটাইম মিউজিয়ামে এখনও অনেক হিন্দু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, ভাস্কর্য, এবং খোদাই করা পাথর সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে বিষ্ণুর অবতার নরসিংহ এবং শিবের বেশ কিছু বিরল ভাস্কর্য রয়েছে।
  • মন্দির বিন্যাস: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই মন্দিরগুলিতে মূলত শৈব এবং বৈষ্ণব দেবতা, যেমন—শিব, বিষ্ণু, গণেশ এবং সম্ভবত কালীর পূজা করা হত।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব: 

এই মন্দিরগুলি শুধু ধর্মীয় স্থান ছিল না, বরং এগুলি ছিল ভারত ও চিনের মধ্যে প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক বিনিময়ের প্রতীক। সেই সময়ে ভারতীয় বণিকদের আধিপত্যের কারণেই এই মন্দিরগুলোর নির্মাণ সম্ভব হয়েছিল।

বর্তমানে কী অবস্থা? 

মিং এবং কিং রাজবংশের আমলে এই মন্দিরগুলির অধিকাংশই ধ্বংসপ্রাপ্ত বা অবহেলিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে কুয়ানঝোর কাইউয়ান মন্দিরের মতো অনেক বৌদ্ধ মন্দিরের স্থাপত্যে এখনও সেই পুরোনো হিন্দু মন্দিরের খোদাই করা পাথরের নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। এই বিস্ময়কর ইতিহাস প্রমান করে যে, প্রাচীনকালে চিন ও ভারতের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ছিল।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।