কর্নেল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এক দারুণ খবর দিয়েছেন। আমাদের সোলার সিস্টেমের বাইরে ৬,০০০-এর বেশি গ্রহ নিয়ে গবেষণা করে তাঁরা পৃথিবীর মতো ৪৫টি গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন। এই গ্রহগুলো তাদের নক্ষত্রের 'হ্যাবিটেবল জোন'-এ রয়েছে, যেখানে জল তরল অবস্থায় থাকতে পারে। TRAPPIST-1 e এবং TOI-715 b-এর মতো গ্রহগুলো এই তালিকায় থাকায় ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান এক নতুন মোড় নিল।

কর্নেল: আমাদের সোলার সিস্টেমের বাইরেও যে হাজার হাজার গ্রহ আছে, তা বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই জেনেছেন। কিন্তু শুধু গ্রহ থাকলেই তো হবে না, সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব কি না, সেটাই আসল প্রশ্ন। এবার এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথে এক বড়সড় সাফল্য পেলেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির কার্ল সেগান ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক। প্রফেসর লিসা ক্যাল্টেনেগারের নেতৃত্বে এই টিম ৬,০০০-এরও বেশি গ্রহ নিয়ে গবেষণা করে ৪৫টি এমন গ্রহ খুঁজে পেয়েছে, যেগুলি অনেকটাই পৃথিবীর মতো এবং প্রাণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশে রয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কীভাবে এই ৪৫টি 'আর্থ-লাইক' গ্রহ খুঁজে পাওয়া গেল?

গবেষকরা এর জন্য ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া 'গায়া' স্পেস মিশন এবং নাসার 'এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভ' থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করেছেন। প্রত্যেকটি গ্রহ তার নিজের নক্ষত্র থেকে ঠিক কতটা শক্তি পায়, তা মেপে দেখা হয়েছে। কারণ, এই শক্তির পরিমাণের উপরেই নির্ভর করে সেখানে জল তরল অবস্থায় থাকতে পারবে কি না, যা প্রাণের অন্যতম শর্ত। আমাদের পৃথিবী যেমন এই 'হ্যাবিটেবল জোন'-এ রয়েছে, কিন্তু শুক্র বা মঙ্গল গ্রহ রয়েছে এর সীমানায়। এই একই নিয়ম অন্য নক্ষত্রমণ্ডলগুলিতে প্রয়োগ করে বিজ্ঞানীরা ৪৫টি গ্রহকে geniş 'হ্যাবিটেবল জোন'-এ এবং ২৪টিকে আরও নির্দিষ্ট মাপকাঠিতে উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

এই আবিষ্কারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল TRAPPIST-1 নক্ষত্রমণ্ডলের গ্রহগুলি, যা আমাদের থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে। গবেষণা দলের অন্যতম প্রধান গবেষক গিলিস লাউরি বিশেষ করে TRAPPIST-1 e এবং TOI-715 b গ্রহ দুটির উপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে TOI-715 b একটি 'সুপার-আর্থ' বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া প্রক্সিমা সেন্টরি বি এবং LHS 1140 b গ্রহ দুটিও বিজ্ঞানীদের নজরে রয়েছে।

এই ধরনের গ্রহগুলিকে আরও কাছ থেকে জানতে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ, এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপ এবং হ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ডস অবজারভেটরির মতো অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়ে পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। যদিও 'হ্যাবিটেবল জোন'-এ থাকলেই যে কোনও গ্রহে প্রাণ থাকবেই, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে মানবজাতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, 'এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা?'—তার উত্তর খোঁজার পথে এটি একটি অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ।