
প্রকৃতির রুদ্ররূপ! ভুটানে হড়পা বান, ফিলিপিন্সে জেগে উঠল আগ্নেয়গিরি, পানামায় ভয়াবহ ভূমিকম্প
বিশ্বের তিন প্রান্তে প্রকৃতির তিন ভয়ংকর রূপ! কোথাও হিমবাহ হ্রদ ফেটে নেমে এল জলপ্রলয়, কোথাও জেগে উঠল আগ্নেয়গিরি, আবার কোথাও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা। ভুটান, ফিলিপিন্স ও পানামার এই তিন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
বিশ্বের তিন প্রান্তে প্রকৃতির তিন ভয়ংকর রূপ! কোথাও হিমবাহ হ্রদ ফেটে নেমে এল জলপ্রলয়, কোথাও জেগে উঠল আগ্নেয়গিরি, আবার কোথাও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা। ভুটান, ফিলিপিন্স ও পানামার এই তিন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
ভুটানে হড়পা বান: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার শিন্তাফু হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। হিমবাহ হ্রদ থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল নেমে আসে। ভেসে যায় রাস্তা, সেতু এবং পর্যটনকেন্দ্রের একাংশ। এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল উত্তরবঙ্গেও। সংকোশ নদীর জলস্তর বাড়ার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ার-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ফিলিপিন্সে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত:স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৫৩ মিনিটে ফিলিপিন্সের আলবে প্রদেশে মায়ন (Mayon) আগ্নেয়গিরিতে মাঝারি মাত্রার বিস্ফোরণধর্মী অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। প্রায় ছ'মিনিট ধরে চলা এই অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার উঁচুতে ছাইয়ের মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে PHIVOLCS সতর্কতার মাত্রা ২ থেকে বাড়িয়ে ৩ করেছে। ছাই পড়ার আশঙ্কা রয়েছে আশপাশের একাধিক এলাকায়। ছয় কিলোমিটার স্থায়ী বিপদসীমার মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলবে প্রদেশে বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল-কলেজের পঠনপাঠন।
পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্প:** গত ৯ অক্টোবর ২০২৬-এ পানামার আজুয়েরো উপদ্বীপে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। কম্পন অনুভূত হয় পানামা সিটি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এবং প্রতিবেশী কলম্বিয়ার কিছু অংশেও। এই ভূমিকম্পে অন্তত দু'জনের মৃত্যু এবং কয়েক ডজন মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। হাজার হাজার বাড়ি, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সেতু ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পের পর একাধিক শক্তিশালী আফটারশকও রেকর্ড করা হয়েছে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও কম্পন অব্যাহত রয়েছে।
প্রকৃতির এই তিন বিপর্যয় আবারও মনে করিয়ে দিল, হিমবাহ গলে হড়পা বান, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা শক্তিশালী ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।