- Home
- World News
- International News
- "ঘরে সাপ পুষলে..." Global Terrorism Index-এ সন্ত্রাসে এক নম্বরে পাকিস্তান, কড়া প্রতিক্রিয়া হাক্কানির
"ঘরে সাপ পুষলে..." Global Terrorism Index-এ সন্ত্রাসে এক নম্বরে পাকিস্তান, কড়া প্রতিক্রিয়া হাক্কানির
Terrorism at Pakistan: গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬-এ প্রথমবার শীর্ষে পাকিস্তান। ২০২৫ সালে ১,০৪৫টি হামলায় মৃত্যু ১,১৩৯ জনের, পণবন্দি ৬৫৫। টিটিপি, বিএলএ ও তালিবান প্রভাব নিয়ে আইইপি-র রিপোর্টে কী বলা হল, জানুন।

প্রথমবার তালিকার শীর্ষে পাকিস্তান
ইনস্টিটিউট ফর ইকনমিক্স অ্যান্ড পিসের (IEP) গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬-এ সন্ত্রাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে পাকিস্তান। প্রতি বছর প্রথম দশে থাকলেও ২০২৫ সালেই প্রথমবার তারা শীর্ষস্থান ছুঁল।

স্কোরে বুর্কিনা ফাসোকেও ছাড়িয়ে গেল
পাকিস্তানের স্কোর ৮.৫৭৪। এই স্কোরের জোরেই তারা পিছনে ফেলেছে বুর্কিনা ফাসোকে। এই দেশই একটা সময় সন্ত্রাসবাদে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় প্রথমে ছিল।
জঙ্গি হামলার খতিয়ান
২০২৫ সালে পাকিস্তানে ১ হাজার ৪৫টি সন্ত্রাসবাদী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১৩৯ জন। রিপোর্ট অনুযায়ী আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৫ জন।
হামলা কমেছে, মৃত্যু বেড়েছে
২০২৪ সালে হামলা হয়েছিল ১ হাজার ৯৮টি, ২০২৫ সালে তা কমে হয়েছে ১ হাজার ৪৫টি। কিন্তু মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। টানা ষষ্ঠ বছর মৃত্যু বাড়ল, আর ২০১৩ সালের পর এত মৃত্যু আর দেখা যায়নি।
পণবন্দির ঘটনা বৃদ্ধি
২০২৪ সালে পণবন্দির ঘটনা ছিল ১০১টি। ২০২৫ সালে এক লাফে তা পৌঁছেছে ৬৫৫-য়। রিপোর্ট অনুযায়ী পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় পণবন্দির ঘটনা প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পশ্চিম সীমান্তেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
বালোচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় ঘটেছে দেশের ৭৪ শতাংশেরও বেশি হামলা এবং ৬৭ শতাংশ মৃত্যু। আফগান সীমান্তঘেঁষা এই দুই প্রদেশই সন্ত্রাসের মূল কেন্দ্র।
তালিবানি হামলা!
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় হামলা বেড়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, কাবুল টিটিপিকে আশ্রয় ও সাহায্য দিচ্ছে। তালিবান সরকার তা অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের দাবি আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালিবানরা ফেরার পর থেকেই তাদের দেশে হামলা বেড়েছে।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী জঙ্গি সংগঠন টিটিপি
টানা পঞ্চম বছর পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)। তারা ৫৯৫টি হামলা চালিয়ে ৬৩৭ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী, যা দেশের মোট সন্ত্রাসে মৃত্যুর ৫৬ শতাংশ। বিশ্বের তৃতীয় সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংগঠনও তারা।
কোয়েটার ট্রেন হাইজ্যাক ও বিএলএ-র হুমকি
২০২৫ সালের বৃহত্তম হামলাটি চালায় বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)। কোয়েটা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে লাইন উড়িয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন দখল করে ৪৪২ জনকে পণবন্দি করা হয়। ওই ঘটনায় প্রাণ হারান ২১ জন পণবন্দি, ৪ জন সেনাকর্মী ও ৩৩ জন জঙ্গি। চিনা নাগরিক এবং সিপিইসি-সংক্রান্ত প্রকল্পও ক্রমশ বিএলএ-র নিশানায়।
বিশ্বে কমল সন্ত্রাস, উল্টো পথে পাকিস্তান
২০২৫ সালে গোটা বিশ্বে সন্ত্রাসে মৃত্যু ২৮ শতাংশ কমে হয়েছে ৫ হাজার ৫৮২, হামলা প্রায় ২২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯৪৪। ৮১টি দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, খারাপ হয়েছে মাত্র ১৯টির। অথচ বিশ্বের সন্ত্রাসে মৃত্যুর প্রায় ২০ শতাংশ একা পাকিস্তানে। এই রিপোর্টের পরই প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি এক্স-এ লেখেন, ঘরে সাপ পুষলে একদিন সে বাড়ির লোককেও কামড়ায়। তাঁর দাবি, ৫০ বছর আগে কট্টরপন্থী জেহাদিদের অস্ত্র জোগানোর নীতিরই ফল ভুগছে পাকিস্তান। আইইপি-র মতে, সরকারের অপারেশন আজম-ই-ইস্তেহকাম এখনও পর্যন্ত "সীমিত সাফল্য" পেয়েছে।

