ইরানের বিদেশমন্ত্রী হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের আচরণকে 'ভণ্ডামি' বললেও আলোচনার দরজা খোলা রেখেছেন।

হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার জন্য 'আগ্রাসনকারীদের' দায়ী করল ইরান

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো অস্থিরতার জন্য "আগ্রাসনকারী" দেশ, অর্থাৎ আমেরিকা ও ইজরায়েলকে পুরোপুরি দায়ী করেছে ইরান। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এই খবর জানিয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রেস টিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার তেহরানে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রীর বিশেষ দূত চুং বিয়ুং-হা-র সঙ্গে এক বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলের কার্যকলাপই দায়ী। আরাঘচি বলেন, "হরমুজ প্রণালীর একটি উপকূলবর্তী দেশ হিসেবে ইরান আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশের নিয়ম মেনে নিজেদের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসন ও হুমকির বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা।" তিনি আরও যোগ করেন, "স্বাভাবিকভাবেই, এই পরিস্থিতির ফলে যা যা হবে, তার সব দায় ওই আগ্রাসনকারী পক্ষগুলোকেই নিতে হবে।"

প্রেস টিভির খবর অনুযায়ী, আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন যে অন্য দেশগুলোরও একটি দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত। তিনি "ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকারীদের নৃশংস অপরাধের" নিন্দা করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে, তিনি ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং তেহরান যে সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত, সে কথাও জানান।

বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার দূত চুং বিয়ুং-হা আশা প্রকাশ করেন যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে এই "আগ্রাসন" বন্ধ হবে এবং অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী চো হিউনের শুভেচ্ছাও পৌঁছে দেন এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন।

আলোচনার ডাক ট্রাম্পের, বাড়ল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের কাছে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

CNBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হলে ইসলামিক রিপাবলিক নিজেদের জন্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে একটি কূটনৈতিক সমাধান তেহরানের আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, "যদি ইরান একটা চুক্তি করে, তবে তারা নিজেদের খুব ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারবে।"

আমেরিকা একদিকে নৌ অবরোধ এবং শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বজায় রেখেছে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান সরকারকে একটি স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত কৌশল নিয়ে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, "তাদের যুক্তি দিয়ে ভাবতে হবে এবং সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই তারা নিজেদের একটি মহান দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।" কৌশলগতভাবে একটি বড় পরিবর্তন এনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আমেরিকার আচরণে 'ভণ্ডামি' দেখছে ইরান

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা করলেও, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার আমেরিকার আচরণকে "ভণ্ডামি" এবং পরস্পরবিরোধী বলে সমালোচনা করেছেন।

পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু ওয়াশিংটন হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার মতো চাপ সৃষ্টি করে প্রকৃত আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে পেজেশকিয়ান লিখেছেন, "ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান সবসময় আলোচনা এবং চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জানাবে। অসৎ উদ্দেশ্য, অবরোধ এবং হুমকিই প্রকৃত আলোচনার পথে প্রধান বাধা। গোটা বিশ্ব আপনাদের ভণ্ডামি, ফাঁকা বুলি এবং আপনাদের কথা ও কাজের মধ্যেকার বৈপরীত্য দেখছে।"

দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টের মতে, ট্রাম্প বলেছেন যে ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক সমাধান "সম্ভব"। তবে, আলোচনা এখনই শুরু হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। কারণ ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন যে পরবর্তী দফার মধ্যস্থতামূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তেহরান এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।