Iran Vs US:ইরান ফের দাবি করল যে তারা আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একটি অত্যাধুনিক এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে বিমানটিকে ধ্বংস করা হয়েছে। 

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে যে তারা দ্বিতীয় একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্য ইরানের আকাশে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, বিমানটি ধ্বংস হওয়ার পর প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়, তাই পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই।

ইরান Vs আমেরিকা

ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেল প্রেস টিভি জানিয়েছে, খাতাম আল-আনবিয়া হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্রের একটি বিবৃতির উল্লেখ করে এই খবর দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, IRGC-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি নতুন এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে বিমানটিকে ভূপাতিত করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "মাটিতে আছড়ে পড়ার সময় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হওয়ায় পাইলটের বিমান থেকে বেরিয়ে আসার (eject) সম্ভাবনা কম।"

একই দাবি করেছে সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স অফ দ্য হোলি প্রফেট (PBUH)। ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং (IRIB)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সংস্থাটিও জানিয়েছে যে IRGC-এর আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম 'লেকেনহিথ' স্কোয়াড্রনের এই স্টিলথ বিমানটিকে ধ্বংস করেছে।

IRIB-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, "যুদ্ধবিমানটি মাটিতে পড়ার সময় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়, তাই পাইলটের বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা কম।"

এর আগে, ১৯ মার্চ ইরান দাবি করেছিল যে তারা বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে একটি মার্কিন F-35 লাইটনিং ২ বিমানে হামলা চালিয়েছে। এই F-35 বিমান আমেরিকার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে অন্যতম সেরা এবং অত্যন্ত মূল্যবান।

আমরিকার দাবি

মার্কিন বিমানবাহিনী ছাড়াও প্রায় ১৯টি দেশ এই লাইটনিং ২ বিমান ব্যবহার করে বা কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সিএনএন-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে, ইরানের সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (SAM) হামলার পর একটি F-35 বিমান জরুরি অবতরণ করে। সেই ঘটনায় পাইলট সুরক্ষিত ছিলেন এবং একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

IRGC জানিয়েছিল, তারা মধ্য ইরানের আকাশে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি F-35 স্টিলথ ফাইটার জেটে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার IRGC-এর সরকারি নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ২:৫০ মিনিটে IRGC-এর অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে বিমানটিতে আঘাত হানা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছিল, "যুদ্ধবিমানটির পরিণতি কী হয়েছে তা স্পষ্ট নয় এবং তদন্ত চলছে, তবে এর ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।"

IRGC আরও উল্লেখ করেছে যে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর আগে ১২৫টিরও বেশি মার্কিন-ইজরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তাদের মতে, এটি দেশের ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।