নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঠিক করে নিল ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ঘোষণা করেছে যে মোজতবা খামেনেই তাঁর নিহত বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের স্থলাভিষিক্ত হবেন। মধ্যপন্থী ধর্মীয় নেতা মোজতবাকে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হত।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঠিক করে নিল ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ঘোষণা করেছে যে মোজতবা খামেনেই তাঁর নিহত বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের স্থলাভিষিক্ত হবেন। মধ্যপন্থী ধর্মীয় নেতা মোজতবাকে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হত। ইরানের ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ সভা (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্স) সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে মোজতবাকে বেছে নিয়েছে। এই পদ মোজতবাকে সমগ্র দেশের শাসন পরিচালনার অধিকার দিল।
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিতকারী কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহসেন হায়দারি আলেকসির রবিবার একটি ভিডিওতে মোজতাবাকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন যে ইরানের শীর্ষ নেতা এমন একজন ব্যক্তি হওয়া উচিত যাকে শত্রুরা, অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইpরায়েল ঘৃণা করে। ৫৬ বছরের মোজতবার হাতেই অঘোষিত ভাবে রয়েছে ইরান ফৌজের এলিট ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’ (আইআরজিসি) বাহিনীর দায়িত্ব। পাশাপাশি, বিভিন্ন শিয়া মুসলিম সংগঠনের শীর্ষ পদেও রয়েছেন তিনি।
মোজতবা ইরানের শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষার কেন্দ্র কোমের মাদ্রাসায় ধর্মীয় রক্ষণশীলদের অধীনে পড়াশোনা করেছেন। তিনি হুজ্জাত আল-ইসলাম উপাধি ধারণ করেন, যা শিয়া ইসলামে একটি উচ্চ স্তরের ধর্মীয় উপাধি। তিনি কখনও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারে কোনও আনুষ্ঠানিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না। তিনি সমাবেশে যোগদান করেছেন কিন্তু খুব কমই জনসমক্ষে বক্তৃতা দিয়েছেন। ইরানে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত, সমালোচকরা সেখানে কোনও বংশীয় রাজনীতির প্রতি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোজতবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে মোজতবা খামেনেই কোনও নির্বাচিত বা আনুষ্ঠানিক সরকারি পদে অধিষ্ঠিত না হলেও, তাঁর বাবার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন এবং ক্ষমতার সিদ্ধান্তগুলিকে প্রভাবিত করেন। ২০২২ সালে কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এক তরুণীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পর সংঘটিত দাঙ্গার সময় বিক্ষোভকারীদের দ্বারা মোজতবা বিশেষভাবে সমালোচিত হন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় খামেনেইয়ের। তারপর থেকে এতদিন ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পদটি ফাঁকা ছিল। ইজরায়েলি মিডিয়া জানিয়েছে যে মোজতবা তাঁর বাবার চেয়েও বেশি কঠোর এবং ইরানে বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়নের পেছনে তাঁর হাত রয়েছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ মোজতবার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়েছিল, যদিও তিনি কখনও নির্বাচিত বা সরকারি পদে নিযুক্ত হননি।
মোজতবার নিয়োগ সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে পারে। যিনি রবিবার বলেছিলেন যে নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের বক্তব্য থাকা উচিত। ট্রাম্প বলেন, "যদি তিনি আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি বেশি দিন টিকতে পারবেন না," এদিকে, ইজরায়েল আগেই হুমকি দিয়েছিল যে ইরানে যাকেই সর্বোচ্চ নেতা বেছে নিক, তাঁকেও টার্গেট করা হবে।
