আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইরান ভবিষ্যতে "নিউক্লিয়ার জ্যাকেট"-এর মতো ভয়ঙ্কর অস্ত্র তৈরি করতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০% পরিশোধিত ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সারা বিশ্ব এখন নানা কারণে উত্তাল। এর মধ্যেই আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে ইরান ভবিষ্যতে এমন এক ভয়ঙ্কর অস্ত্র তৈরি করতে পারে, যার নাম দেওয়া হচ্ছে "নিউক্লিয়ার জ্যাকেট"।
এটি এমন এক পারমাণবিক অস্ত্র হতে পারে যা কোনো ব্যক্তি শরীরে পরে আত্মঘাতী হামলার মতো ব্যবহার করতে পারবে। যদি সত্যিই এমনটা হয়, তবে তা প্রচলিত পারমাণবিক অস্ত্রের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
'নিউক্লিয়ার জ্যাকেট' ব্যাপারটা ঠিক কী?
আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতে, ইরান ছোট আকারের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে ঝুঁকতে পারে। এই অস্ত্র এতটাই ছোট হতে পারে যে তাকে জ্যাকেট বা ব্যাগের মতো জিনিসে লুকিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আমেরিকার কাছে ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম ছোট পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যার ওয়ারহেড বা боеголовка-র ওজন প্রায় ২৩ কিলোগ্রাম। এর বিস্ফোরণের ক্ষমতা প্রায় ১০ টন TNT-র সমান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তিকে যদি আরও ছোট করা যায়, তবে তাকে শরীরে পরার মতো বা সঙ্গে নিয়ে চলার মতো যন্ত্রে ফিট করা সম্ভব।
হঠাৎ এই আশঙ্কা মাথাচাড়া দিল কেন?
সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ইরানের উচিত পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কথা ভাবা। এই চুক্তিটি হলো Treaty on the Non‑Proliferation of Nuclear Weapons (NPT), যার মূল উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা।
তাসনিমের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যদি অন্য দেশগুলো নিয়ম না মানে, তাহলে ইরান কেন নিজেকে এই নিয়মে বেঁধে রাখবে?
ইরানের কাছে কতটা ইউরেনিয়াম আছে?
আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের কাছে এই মুহূর্তে প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম রয়েছে যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশোধিত (enriched)।
সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, এই পরিমাণ ইউরেনিয়ামকে যদি আরও পরিশোধিত করা হয়, তবে তা দিয়ে ভবিষ্যতে প্রায় ১০-১১টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
আমেরিকার জন্য এটা কেন এত বড় বিপদ?
আমেরিকান ಅಧಿಕಾರಿদের মতে, এর পেছনে তিনটি বড় কারণ রয়েছে।
- মিসাইল নয়, মানুষের মাধ্যমে হামলা: ইরানের কাছে এখনও এমন কোনো দূরপাল্লার মিসাইল বা যুদ্ধবিমান নেই যা সরাসরি আমেরিকায় হামলা চালাতে পারে। কিন্তু যদি খুব ছোট পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যায়, তবে তাকে কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য দেশে পাচার করা সম্ভব। এই কারণেই আমেরিকার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
- স্লিপার সেলের চিন্তা: আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করে, বিশ্বের অনেক দেশের মতোই আমেরিকাতেও বিভিন্ন সংগঠনের স্লিপার সেল সক্রিয় থাকতে পারে। যদি ছোট আকারের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি হয়ে যায় এবং তা কোনো গোপন নেটওয়ার্কের হাতে পৌঁছায়, তবে তাকে আটকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
- ছোট হামলা, কিন্তু প্রভাব মারাত্মক: এই ধরনের অস্ত্র প্রচলিত পারমাণবিক বোমার মতো বিশাল ধ্বংসলীলা হয়তো ঘটাবে না। কিন্তু কোনো বড় শহরের একটি অংশেও যদি এর ব্যবহার হয়, তবে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং সারা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে। জেডি ভ্যান্সের কথায়, "যদি কোনো শহরের একটা এলাকাও ধ্বংস হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ মারা যায়, তার প্রভাব শুধু একটা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।"
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, "নিউক্লিয়ার জ্যাকেট"-এর মতো প্রযুক্তি এখনও বেশ জটিল এবং এটি তৈরি করা সহজ নয়। কিন্তু বিশ্বে বাড়তে থাকা পারমাণবিক উত্তেজনা এবং নতুন সামরিক প্রযুক্তির দৌড়ে এই ধরনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক।
এই কারণেই আমেরিকা এবং তার সহযোগী দেশগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর ক্রমাগত নজর রেখে চলেছে। ইরানের সম্ভাব্য "নিউক্লিয়ার জ্যাকেট" নিয়ে এখনও কোনো ठोस প্রমাণ সামনে আসেনি। কিন্তু আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।


