আল আরাবিয়ার দাবি, মার্কিন-ইরান আলোচনার খসড়ায় ইউরেনিয়াম স্থানান্তর ও ৭ দিনে হরমুজ প্রণালী খোলার প্রস্তাব রয়েছে। গ্যারান্টার হিসেবে চিন, আলোচনা দোহায়। কী বললেন ট্রাম্প, জেনে নিন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি প্রাথমিক খসড়া কাঠামো সামনে এসেছে বলে দাবি করেছে আল আরাবিয়া ইংলিশ। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, তারা এই খসড়ার মূল বিষয়গুলি এক্সক্লুসিভভাবে হাতে পেয়েছে। খসড়ায় প্রস্তাব রয়েছে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোনও সম্মত তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়া হবে, অথবা সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানো হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক সমঝোতার সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
আমেরিকা-ইরানের শান্তিচুক্তিতে গ্যারেন্টার চিন!
রিপোর্ট অনুযায়ী, কোনও চুক্তি বাস্তবায়ন ও তার স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে চিন গ্যারান্টার হিসেবে ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়া ইস্তানবুলের বদলে দোহায় সরাসরি মার্কিন-ইরান আলোচনা করার প্রস্তাবও রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে ইরান যে পদক্ষেপ করবে, তার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করবে আমেরিকা। প্রতিটি ধাপ কার্যকর করার আগে স্বাধীন যাচাইকরণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করবে, কোনও পক্ষ সেই শর্ত মানছে কি না। দেরি বা শর্তভঙ্গ হলে তা মেটাতে মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টার পক্ষকে নিয়ে একটি বিবাদ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কথাও খসড়ায় আছে, যাতে নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়ানো যায়।
এদিকে ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-র খবর, মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর এক সিনিয়র উপদেষ্টার নেতৃত্বে ওই দল ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শুক্রবার সকালে তেহরানে নামে। জানা গিয়েছে, কাতারি দূতদের মাধ্যমে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ইরানের নিরাপত্তা আধিকারিক মহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। আরও মার্কিন সামরিক হামলা ঠেকাতে নতুন কূটনৈতিক পথের প্রস্তাব থাকায় তেহরানে চিঠিটি স্বাগত জানানো হয়েছে বলে খবর।
আলোচনা নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
যদিও এই খসড়া সামনে আসার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের কোনও তাড়া নেই। তিনি বলেন, এটি "সাধারণ যুদ্ধ নয়" এবং সময় আমেরিকার পক্ষেই। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা চায়, কিন্তু তারা সেনা ও পুলিশকে বেতন দিতে পারছে না, অনেক সমস্যায় রয়েছে। সাত মাস ধরে লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। ভেনেজুয়েলা থেকে সেই খরচের ১০ গুণ উসুল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি, যদিও এর সমর্থনে কোনও পরিসংখ্যান দেননি।
সময় আছে বলার পাশাপাশি আবার সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও বারবার বলছেন ট্রাম্প। আগে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকা "আরেকটি ছোট এপিক ফিউরি" চালাতে পারে। আবার অন্য সময় ইঙ্গিত দিয়েছেন, "বড় ও ভালো" চুক্তিও এখনও হতে পারে। পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধের মতো মূল শর্তগুলি নিয়ে দুই পক্ষ এখনও পরস্পরের থেকে অনেক দূরে।
কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত। শুক্রবার আমেরিকায় আয়োজিত জি২০ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর খবর অনুযায়ী, আলোচনায় ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উঠে আসে। এর কয়েকদিন আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়িপ এরদোগান ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে কথা হয়। সেখানে সমুদ্রপথ নিয়ে আঙ্কারার সতর্কতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানানো হয়।






