ইজরায়েলের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পিছনে ফেলে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে (Gadi Eisenkot) নতুন সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চলেছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর এই সিদ্ধান্তকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

ইজরায়েলের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পিছনে ফেলে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে (Gadi Eisenkot) নতুন সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চলেছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর এই সিদ্ধান্তকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও নিশ্চিত নয় ইজরায়েলে নতুন সরকার গঠন করতে পারবেন কি না আইজেনকোট। ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৮ নভেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার কথা।

আইজেনকোট ইজরায়েলের প্রাক্তন সেনাপ্রধান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে তাঁর দল বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। ইজরায়েলের ১২০ আসনের সংসদ নেসেটে সরকার গড়তে প্রয়োজন ৬১টি আসন। নির্বাচনের ফলাফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন ৫৩। অন্যদিকে, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি আসন। নেতানিয়াহু-বিরোধী চার দলের জোটের মোট আসন ৪৮। ইজরায়েলের আরব-প্রধান দলগুলি সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২৮ দিনের মধ্যে সরকার গড়তে হবে আইজেনকোটকে

প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পাওয়ার পর আইজেনকোটের হাতে থাকবে ২৮ দিন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট তাঁকে আরও ১৪ দিন সময় দিতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনও প্রার্থীকে আমন্ত্রণ জানাবেন। তবে সরকার গঠনের পথে রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক বাধা। আরব দলগুলির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে গেলে বিরোধী শিবিরের মধ্যেই মতবিরোধ তৈরি হতে পারে। আবার নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ব্যর্থ হলে কী হবে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ?

আইজেনকোট সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে অন্য কোনও সংসদ সদস্যকে সেই সুযোগ দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে নেতানিয়াহুও সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইজরায়েলে ফের নির্বাচন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে নেতানিয়াহুর সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব এখনই শেষ হচ্ছে না।