- Home
- World News
- International News
- যমদেবের জ্বলন্ত কড়াই কাওয়ান ইজেন! ভয়ঙ্কর এই হ্রদের জলে ভাজা ভাজা হতে পারে মানুষ
যমদেবের জ্বলন্ত কড়াই কাওয়ান ইজেন! ভয়ঙ্কর এই হ্রদের জলে ভাজা ভাজা হতে পারে মানুষ
Kawah Ijen: ইন্দোনেশিয়ার একটি হ্রদ কাওয়ান ইজেন। এটি বিখ্যাত একটি আগ্নেয়গিরির হ্রদ। যেখানে মৃত্যুর হাতছানি পরতে পরতে। রইল এই হ্রদের ঠিকানা। সর্বদাই ফুটছে হ্রদের জল।

যমদেবের জ্বলন্ত কড়াই
পুরাণগাথায় যম দেবতার জ্বলন্ত কড়াইয়ের গল্প আমরা ছোটবেলায় খুবই শুনেছি। শুনতে শুনতে ভয় গুটিয়ে গেছি। কিন্তু আসলে তেমনই একটি জ্বলন্ত হ্রদ রয়েছে এই বিশ্বে। যার জলের সংস্পর্শে এলে মানুষতো কোন ছার! পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে শক্তপোক্ত ধাতুও। আশ্চার্য বা অভিশপ্ত এই হ্রদের ঠিকানা ইন্দোনেশিয়া।
জ্বলন্ত হ্রদ
ফিরোজা নীল রঙের জল। পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভাতে অবস্থিত কাওয়াহ ইজেন হ্রদ। এটি বৃহৎ আগ্নেয়গিরির একটি জটিল অংশ। বিশ্বের সব থেকে বড় অ্যাসিড গর্তের হ্রদ। এটি বিশ্বের মারাত্মক ক্রেটার হ্রদ হিসেবে চিহ্নিত। ভয়ঙ্কর এই হ্রদ কিন্তু বছরের পর বছর পর্যটকদের আকর্ষণ করে চলেছে।
অ্যাসিড হ্রদ
লাইভ সায়েন্স-এর প্রতিবেদন অনুযআয়ী এই হ্রদের জলের কিছু অংশের pH স্তর 0.3-এর চেয়ে কম। এটি ব্যাটারি অ্যাসিডের মত। সোজা কথা হল- এই হ্রদের জল ত্বক পুড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। এই জলের সংস্পর্শে এলে ধাতুও দ্রবীভূত হয়।
ভয়ঙ্কর হ্রদের কথা
ইউটিউবে আন্ডার ওয়ার্ল্ড-এর আপলোড করা একটি ভিডিো অনুযায়ী কম pH স্তর হ্রদটিকে সবথেকে ক্ষয়কারী প্রাকৃতিক জলাশয়গুলির মধ্যে একটি করে তুলতে পারে। অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানগুলি এতে ফেলে দিতে তা নষ্ট হয়ে যায়। পাথরগুলি ধীরে ধীরে দ্রবীভূত হয়। কোনও প্রাণী বা মানুষ এই হ্রদের জলে বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে না। বিপদ রয়েছে আরও। হ্রদ আর আশপাশের ছিদ্র দিয়ে ক্রমাগত বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। যারমধ্যে রয়েছে সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন -ডাই - অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড। তাই মৃত্যু এড়াতে এই হ্রদ ভ্রমণে গ্যাস মাস্ক নেওয়া আবশ্যিক।
মারণ হ্রদের রাতের আকর্ষণ
কাওয়াই ইজেনের সবথেকে বড় আকর্ষণ এর উজ্জ্বল নীল রং। নীল জল আর নীল আগুন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেখা যায়। এর নীল আগুন সালফিউরিক গ্যাস থেকে আসে। যা আগ্নেয়গিরি থেকে বেরিয়ে আসে। বাতাসে অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে। সেটিকে নীল দেখায়। এর আগুনের শিখা ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা ছুঁতে পারে। দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল নীল রঙ কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
কর্মস্থল
কাওয়ান ইজেন- ঝুঁকিপূর্ণ একটি হ্রদ। মৃত্যুর ফাঁদ পাতা রয়েছে পরতে পরতে। কিন্তু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থল। স্থানীয়রা গরতের মাঝখান থেকে সালফারের খোঁজে তল্লাশি চালায়। গরম গ্যাসগুলি ধীরে ধীরে তরল হয়, তারপর শক্ত হয়ে জমাট বেঁধে সালফারে পরিণত হয়। খনি শ্রমিকরা ধাতব রড ব্যবহার করে সেগুলি সঞ্চয় করে।

