৮০ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা লুলা দা সিলভা ফের ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তিনি হারিয়েছেন ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে।
৮০ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা লুলা দা সিলভা ফের ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। একসময় কারখানায় কাজ করা এই নেতা রবিবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হারিয়ে দিয়েছেন ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে। প্রথম দফার ভোটে দুজনের মধ্যে টাই হয়েছিল। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম এবং 'ডেটাফোলহা'-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯৯.৭৭ শতাংশ ভোট গোনা হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৬ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে জুনিয়র বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮.২৪ শতাংশ ভোট।
চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট লুলা
এই জয়ের ফলে ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতার মুকুটে নতুন পালক জুড়ল। গেটুলিও ভার্গাসের পর ব্রাজিলের ইতিহাসে দ্বিতীয় দীর্ঘতম মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা। এই মেয়াদ শেষ হলে তাঁর ক্ষমতায় থাকার সময়কাল দাঁড়াবে ১৬ বছর। ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে যা একটা বড় রেকর্ড।
ভোটে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি হলঃ
এবারের নির্বাচনী প্রচারে মূলত জীবনযাত্রার মান, অপরাধ এবং দুর্নীতির মতো বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছিল। সিএনএন-এর রিপোর্ট বলছে, ১৯৮৯ সালে সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চালু হওয়ার পর এই প্রথম এমন কিছু ঘটল। প্রথম দফায় দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেও শেষমেশ প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হলেন কোনো প্রার্থী। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের ক্ষমতায় ছিলেন লুলা। তবে এবার জীবনযাত্রার খরচ এবং নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ থাকায় তাঁকে বেশ কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয়। অন্যদিকে বলসোনারো তাঁর প্রচারে অপরাধ দমনের ওপর জোর দিয়েছিলেন। পাশাপাশি খাবারের দাম কমানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধেই পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। দুর্নীতির দায়ে লুলা তো এক বছরের বেশি সময় জেলেও কাটিয়েছেন। যদিও পরে সেই সাজা বাতিল হয়ে যায়।
আগামী দিনে ব্রাজিলের লক্ষ্য
রবিবারের এই নির্বাচনের দিনটা বেশ উত্তেজনার মধ্যেই কেটেছে। দুই প্রার্থীর শেষ মুহূর্তের অনুরোধে নির্বাচন কমিশন ভোটের সময় আরও দু'ঘণ্টা বাড়িয়ে দেয়।
সিএনএন-এর মতে, লুলার এই জয়ের প্রভাব শুধু ব্রাজিলে নয়, গোটা বিশ্বেই পড়বে। ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় এই দেশ এবার স্বাধীন বিদেশনীতির পথে হাঁটবে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই লুলা বরাবরই ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলেছেন। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথ এবং চিনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সত্তরের দশকে একজন ইউনিয়ন লিডার হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন লুলা। এরপর তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি তৈরি করেন। এই দলের হয়ে তিনবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার পর অবশেষে ২০০২ সালে তিনি জয় পান। চার বছর পর তিনি ফের নির্বাচিত হন। এরপর ২০১০ সালে তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য দিলমা রুসেফ প্রেসিডেন্ট হন। ২০১৪ সালেও রুসেফ ফের নির্বাচিত হয়েছিলেন।


