Nuclear Energy: চাঁদে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানাল মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। প্রথমবারের মতো চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থা।

NASA: নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি (Nuclear Reactor) স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঐতিহাসিক পরিকল্পনা করেছে। এই ফিশন সারফেস পাওয়ার সিস্টেমটি চন্দ্রপৃষ্ঠে, বিশেষ করে ১৪ দিনের দীর্ঘ অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে । এটি মূলত চন্দ্রাভিযানের ‘খেলা’ বদলে দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বসতি স্থাপন ও মঙ্গল অভিযানের পথ প্রশস্ত করবে।

নাসার এই পরিকল্পনার বিস্তারিত দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হল-

  • লক্ষ্য ও ক্ষমতা: নাসা এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি যৌথভাবে এমন একটি সিস্টেম তৈরি করছে, যা প্রায় ১০০ কিলোওয়াট (পূর্বের পরিকল্পনায় ৪০ কিলোওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে, যা চাঁদে বসতি, ল্যাব এবং খনিজ উত্তোলনের জন্য যথেষ্ট।
  • কেন পারমাণবিক শক্তি? চাঁদে ১৪ দিন দিনের আলো থাকলেও পরবর্তী ১৪ দিন থাকে ঘুটঘুটে অন্ধকার ও প্রচন্ড ঠান্ডা। সৌরশক্তি এই দীর্ঘ রাতে অকার্যকর, তাই পারমাণবিক শক্তিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস।
  • স্থাপনের স্থান: রিয়াক্টরটিকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি স্থায়ীভাবে ছায়াযুক্ত গর্তে স্থাপন করার পরিকল্পনা, কারণ সেখানে জলের বরফ পাওয়া গেছে যা জীবনধারণ ও জ্বালানির জন্য জরুরি।
  • কাজের ক্ষেত্র: এই বিদ্যুৎ চাঁদের বুকে জলের বরফ থেকে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন জ্বালানি তৈরি, গ্রিনহাউস চাষ, মহাকাশচারীদের বাসস্থান গরম রাখা এবং গবেষণাগার পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে।
  • সময়কাল: ২০৩০ সালের মধ্যে এটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে, যা আর্টেমিস (Artemis) মিশনের অংশ হিসেবে চাঁদে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

এই উদ্যোগটি মহাকাশ গবেষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা রাশিয়া ও চিনের যৌথ চন্দ্র-পরিকল্পনার জবাবে একটি বড় প্রযুক্তিগত অর্জন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ভবিষ্যতে ভারতও এই ধরনের পরিকল্পনা করতে পারে। ইসরো (Indian Space Research Organisation) ও নাসা অতীতে একসঙ্গে কাজ করেছে। ফলে ভবিষ্যতে ফের এই দুই সংস্থা একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।