কাঠমান্ডুতে মেট্রোপলিটন পুলিশের জরিমানার জেরে ২৫ বছরের এক যুবকের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা। এই ঘটনায় বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন নগর প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। নেপালের সংসদেও এ নিয়ে তোলপাড় চলছে এবং সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

কাঠমান্ডুতে ২৫ বছর বয়সী এক বাইক আরোহী নিজের গায়ে আগুন দেওয়ার পর নেপালের রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। এই ঘটনার জেরে কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বালেন শাহের প্রশাসন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। নেপালের বিরোধী দল থেকে শুরু করে শাসক দলের সদস্যরা পর্যন্ত এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দায়বদ্ধতার দাবি করেছেন। বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসের সাংসদ বাসনা থাপা সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী (বালেন্দ্র শাহ), এবার কালো চশমাটা খোলার সময় হয়েছে। সাঝা Yatayat-এর সবুজ বাসে নীল রং করলেই নাগরিকরা সুরক্ষিত বোধ করেন না। নিরাপত্তা তখনই আসে যখন রাষ্ট্র ন্যায়বিচার দেয়, কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং সুশাসন বজায় রাখে।" জানা গেছে, ওই যুবকের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তাকে কাঠমান্ডুর বীর হাসপাতালের বার্ন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বালেন্দ্রর সরকারের বয়স মাত্র তিন মাসের মত। তারই মধ্যে সরকারি বিরোধী আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। এবারও আন্দোলনের প্রথম সারিকে জেন Z।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বালেন্দ্র বিরুদ্ধে অসন্তোষের কারণ

ঘটনাটি ঘটে কাঠমান্ডুর পাসপোর্ট বিভাগের ভবনের কাছে। অভিযোগ, মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জিনিসপত্র সংগ্রহ করার সময় তার মোটরসাইকেলটি লক করে জরিমানা করে। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, ২৫ বছর বয়সী ওই যুবক তার ভাগ্নেকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন যে মেট্রোপলিটন পুলিশ তার মোটরসাইকেল বাজেয়াপ্ত করে ১,০০০ নেপালি রুপি জরিমানা করেছে।

বৃহস্পতিবার পুলিশ আবার তার মোটরসাইকেলের চাকা লক করে দেয়। কর্মকর্তারা যখন গাড়িটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ওই যুবক জরিমানা দিতে অস্বীকার করেন বলে জানা যায়। তার পরিবারের অভিযোগ, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল কর্মীদের উপর বারবার জরিমানা এবং চাপ প্রয়োগের কারণেই তার মানসিক যন্ত্রণা বেড়ে গিয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার পর পুলিশকর্মীরা আহত ব্যক্তিকে হাঁটিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন, যা নিয়েও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। নেপাল সরকার প্রথমে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়, কারণ তার অবস্থা এতটাই সংকটজমক ছিল যে তাকে স্থানান্তর করা সম্ভব ছিল না। সরকার একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছিল এবং সমস্ত চিকিৎসার খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছিল। ওই যুবক আদতে উত্তর-পশ্চিম নেপালের মুগু জেলার বাসিন্দা। তিনি দুবাইতে চাকরি খুঁজতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং কাঠমান্ডুতে থেকে সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনা রাস্তায় প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে এবং সংসদে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

বালেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ

সাংসদরা তরুণ এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল নাগরিকদের সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুক্রবার সংসদীয় অধিবেশনে, শাসক ও বিরোধী উভয় দলের সদস্যরা এই ঘটনার জন্য সরকারের সমালোচনা করেন এবং বৃহত্তর দায়বদ্ধতার আহ্বান জানান। শাসক দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (RSP) সাংসদ আসিকা তামাং বলেন, "এই ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির মর্মান্তিক পরিণতি নয়। এটি হাজার হাজার স্ব-নিযুক্ত যুবকের ব্যবহারিক সমস্যার প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটি গুরুতর সংকেত। যুবকদের জন্য অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ তৈরি করা উচিত নয়। তাদের কাজের পরিবেশ নিরাপদ এবং আরামদায়ক করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।"

বালেন্দ্র সরকারের বিরোধিতা

বিরোধী সাংসদ, CPN-UML-এর আইন বাহাদুর মহার, নাগরিকদের অভিযোগ সমাধানে বালেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, "সরকারের স্টান্টবাজি বন্ধ করা উচিত। রাষ্ট্র নাগরিকদের আত্মাহুতি দিতে বাধ্য করেছে; তাদের এই পরিস্থিতিতে পৌঁছানো থেকে রাষ্ট্রকেই আটকাতে হবে। তারা বস্তিবাসী হোক বা গণেশ নেপালি, রাষ্ট্র জোর করে নাগরিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমান নেতৃত্বের এর দায় নেওয়া উচিত।" ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মধ্যে, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সংসদে সরকারের পক্ষে সাফাই দেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি স্থানীয় সরকারের এখতিয়ারে ঘটেছে, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অধীনে নয়। গুরুং বলেন, "আমাদের তিন স্তরের সরকার আছে। একটি ফেডারেল সরকার, একটি প্রাদেশিক সরকার এবং অন্যটি স্থানীয় সরকার, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে। ট্র্যাফিক পুলিশ সেখানে চাকা লক করেনি। ট্র্যাফিক পুলিশের চাকা লক করার কোনো ভিডিও আছে কি? এটা ছিল মিউনিসিপ্যাল পুলিশ। আমি বিরোধী দলের মাননীয় সদস্যদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, এখন সেখানে কার স্থানীয় সরকার? রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির? এখন কার প্রাদেশিক সরকার? আরএসপি-র? দুই স্তরের সরকার তো আপনাদের হাতে। এই নিয়ম-কানুন কে তৈরি করেছে? আপনারা আইন তৈরি করেছেন; আমরা সেই আইনই অনুসরণ করছি।"

এই ঘটনার পর, সরকার বিষয়টি তদন্তের জন্য ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) গোবিন্দ থাপালিয়ার নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। সংসদে এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে গুরুং বলেন, "মামলাটি তদন্তের জন্য আমরা ডিআইজি গোবিন্দ থাপালিয়ার নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছি। আরও তদন্তের জন্য তিন মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আমরা নিরপেক্ষভাবে মামলাটি তদন্ত করব।" এই কমিটি ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং জড়িত পুলিশ কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে।