পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তেহরানে পৌঁছেছেন। তিনি পাক নেতৃত্বের তরফে আয়াতোল্লা খামেনেই-এর জন্য একটি বিশেষ বার্তা নিয়ে গেছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল আমেরিকা-ইরান সংঘাত মেটানো এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা সহজ করা।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, তিনি দেশের শীর্ষ সামরিক ও অসামরিক নেতৃত্বের একটি বিশেষ বার্তা নিয়ে ইরানের রাজধানীতে এসেছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম-কে তিনি বলেন, "আমি পাকিস্তানের সেনা কমান্ডার এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আয়াতোল্লা সায়্যেদ মোজতাবা খামেনেই-এর জন্য একটি বিশেষ চিঠি নিয়ে এসেছি।"

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পাকিস্তানের মধ্যস্থতার চেষ্টা

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা সংঘাত মেটাতে আলোচনার জন্যই নকভির এই উচ্চ-পর্যায়ের সফর। এর আগে এপ্রিলে পাকিস্তান আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেই আলোচনায় কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি।

শনিবারের এই সফরটি ছিল সাম্প্রতিক সপ্তাহে নকভির তৃতীয় ইরান সফর। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য আঞ্চলিক স্তরে लगातार চেষ্টা চলছে।

কূটনৈতিক বৈঠক ও প্রস্তুতি

তেহরানে পৌঁছনোর পর পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষ এস্কান্দার মোমেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এই খবর জানিয়েছে।

এরপর নকভি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় বসবেন বলে তাসনিম নিউজ এজেন্সি সূত্রে খবর।

তেহরান রওনা হওয়ার আগে এই সফরের প্রস্তুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নকভি। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, "প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই সফরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।"

ওই বৈঠকে নকভি কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে হওয়া বিভিন্ন বৈঠক নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, নকভি বিশকেকে তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষ মোমেনির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেখানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

PMO-র বিবৃতি অনুযায়ী, শরিফের সঙ্গে ওই বৈঠকের আর একটি উদ্দেশ্য ছিল দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

পশ্চিম এশিয়ায় মারাত্মক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আবহে এই জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। এই সংকটের কারণে বিশ্ব বাণিজ্য এবং পুঁজি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানে সামরিক হামলা চালালে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর পরেই তেহরান পাল্টা জবাব দেয়।

যদিও ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর সরাসরি সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ হয়, কিন্তু উত্তেজনা এখনও কমেনি। তারপর থেকে দুই প্রতিপক্ষ শিবিরই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিয়মিত কূটনৈতিক বার্তা বিনিময় করে চলেছে।