বেকারত্ব আর অর্থনৈতিক সংকটে হতাশ যুবকরা একজোট হলে গোটা ব্যবস্থা ওলটপালট করে দিতে পারে। ইসলামাবাদে 'পাকিস্তান ইকোনমিক সামিট'-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এভাবেই দেশের সিস্টেম ভেঙে পড়েছে বলে কার্যত স্বীকার করে নিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের গোটা শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতে যেভাবে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা পথে নেমেছিল, সেই ধাঁচে 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র মতো কোনও যুব আন্দোলন শুরু হলে দেশে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
দেশের ভেঙে পড়া সিস্টেম দ্রুত সংস্কার না করলে পাকিস্তান এক বিরাট গণ-আন্দোলনের সাক্ষী হতে পারে। যুবকদের মধ্যে বাড়তে থাকা ক্ষোভের কথা বলতে গিয়েই তিনি ভারতের এই উদাহরণ দেন। বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটে হতাশ যুবকরা একজোট হলে বর্তমান ഭരണব্যবস্থাকে তারা উল্টে দিতে পারে বলে নকভি সতর্ক করেছেন।
ইসলামাবাদে 'পাকিস্তান ইকোনমিক সামিট'-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেন যে দেশের বর্তমান সিস্টেম ব্যর্থ। নকভি বলেন, "আমরা যে ব্যবস্থায় রয়েছি, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই পদ্ধতিতে দেশের সমস্যার সমাধান করা যাবে না। প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল না হলে দশ বছর পরেও আমরা একই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে থাকব।" তিনি আরও যোগ করেন, যুবকদের যদি কেউ ছোট করে দেখে, তবে তা বড় ভুল হবে। অধিকার না পেয়ে হতাশ যুবকরা একজোট হলে তাদের আটকানো কারও পক্ষে সম্ভব হবে না।
শুধু সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের চেষ্টায় পাকিস্তানে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, সাংবাদিকদের এমনটাই জানান নকভি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক নেতাদের একজোট হয়ে দেশের সংবিধান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করলেও, প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে বদল না এলে এই প্রচেষ্টা শুধুমাত্র সাময়িক সমাধান হয়েই থেকে যাবে, স্পষ্ট জানান নকভি। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর, বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় যখন সেনার অভিযান ও বিক্ষোভ চলছে, ঠিক সেই সময়ে পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।


