- Home
- World News
- International News
- Solar Storm: গতি ঘণ্টায় ১৪০০ কিমি! তৈরি হয়েছে বিরাট সৌরঝড়, হু হু করে তাই বাড়ছে তাপমাত্রা?
Solar Storm: গতি ঘণ্টায় ১৪০০ কিমি! তৈরি হয়েছে বিরাট সৌরঝড়, হু হু করে তাই বাড়ছে তাপমাত্রা?
আজই পৃথিবীতে ধেয়ে আসছে এক বিরাট সৌরঝড় (Solar Storm)। সূর্যের অন্দরে ভয়ংকর বিস্ফোরণের জেরে পৃথিবীর উপর এই শক্তিশালী ঝড় আছড়ে পড়তে পারে বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের। প্রতি সেকেন্ডে আনুমানিক ১৪০০ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে এটি।

সূর্যের অন্দরে ভয়ংকর বিস্ফোরণের জেরে পৃথিবীর উপর এক শক্তিশালী ঝড় আছড়ে পড়তে পারে বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের। প্রতি সেকেন্ডে আনুমানিক ১৪০০ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে এটি।

সোমবার রাত থেকেই এর প্রভাব অনুভূত হতে পারে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যের অ্যাক্টিভ রিজন ৪৪৬১ নামের একটি সক্রিয় অংশ থেকে গত ৬ জুন প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে।
এর ফলে তৈরি হয়েছিল বিশাল চুম্বকীয় গ্যাসমেঘ বা ফিলামেন্ট (Magnetic Gas Clouds), যেটি প্রতি সেকেন্ডে আনুমানিক ১৪০০ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। তবে এর প্রভাব কী পড়বে?
সর্তকতা জারি মহাকাশ গবেষকদের
এই পরিস্থিতির জেরে আমেরিকার স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার ইতিমধ্যেই জি-৩ মাত্রার একটি ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের সর্তকতা জারি করেছে। এমনকি তা জি-৪ পরিস্থিতিতেও পৌঁছতে পারে বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের।
নাসা সহ বিশ্বের একাধিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এই সৌরঝড়ের গতিবিধির উপর একেবারে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। কারণ, শক্তিশালী সৌরঝড় পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ পরিষেবা, স্যাটেলাইট সবকিছুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এবার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে কী এই গ্যাসমেঘ বা ফিলামেন্ট? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফিলামেন্ট হল সূর্যের বায়ুমন্ডলে ভেসে থাকা একটি বিশাল চুম্বকীয় গ্যাসের সেতু, যেটিকে দেখতে অনেকটা আগুনের বিশাল ফিতের মতো। এর ভিতরে থাকা গ্যাস অত্যন্ত ঘন আর ভারী হয়।
যখন সূর্যের চৌম্বকীয় ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, তখন এই ফিলামেন্ট ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মহাশূন্য থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসে। তখনই এই সৌরঝড়ের সৃষ্টি হয়। আর এবারের ফিলামেন্টিকে বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী বলেই মনে করছেন।
ভারতের আকাশেও দেখা যেতে পারে এই দৃশ্য
উল্লেখ্য, এই সৌরঝড়ের সবথেকে আকর্ষণীয় দিক হল মেরুজ্যোতি বা অরোরা। সাধারণত উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে এই রঙের আভা দেখা যায়। কিন্তু শক্তিশালী সৌরঝড়ের সময় সেই আলো অনেক নিচের অক্ষাংশ দিয়েও দেখা যেতে পারে।
সেক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে ভারতের উত্তরাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গা থেকেও সোমবার রাতে সবুজ, লাল বা বেগুনি আলোর দৃশ্য দেখা মিলতে পারে। এমনকি ২০২৪ সালেও একটি শক্তিশালী সৌরঝড়ের সময় ভারতের কিছু অংশে মেরুজ্যোতি দেখা গিয়েছিল। আর এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে অনুমান।
তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এই সৌরঝড়ের প্রভাবে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেস্তে যেতে পারে। পাশাপাশি জিপিএস পরিষেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এমনকি রেডিও সংযোগে প্রভাব পড়তে পারে, আর কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে সেরকম আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছেন মহাকাশ গবেষকরা।

