কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জনই ভারতীয়। এই ঘটনায় ৫৪ জন গুরুতর জখম এবং ১৮ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি পুনরায় চালু হওয়া এই গ্যাস হাবটিতে রবিবার রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

রবিবার রাতে কাতারের উত্তর-পূর্ণ এলাকার রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে বিস্ফোরণের পরেই আগুন ধরে যায় বলে খবর। জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন গুরুতর জখম হয়েছে। নিখোঁজ অন্তত ১৮। এবার প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাতারে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জানা গিয়েছে, ইরান ও আমেরিকার সংঘাত চলাকালীন মাসখানেক আগেই এই ন্যাচারাল গ্যাস হাবে হামলা চালিয়েছিল তেহরান। তারপর থেকেই বন্ধ ছিল রাসলাউান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি।

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে পুনরায় এই হাব চালু হয়েছিল। এই হাব থেকে গ্যাস রপ্তানির কাজও শীঘ্রই শুরু হওয়ায় কথা ছিল। রবিবার রাতে ঘটে এই বিস্ফোরণ। সঙ্গে সঙ্গেই সাংঘাতিক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয় গোটা হাবটি। শিল্পাঞ্চলের বাকি অংশেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। আগুন এতটাই ভয়াবহ রূপ নেয়। এই আগুনের লেলিহান শিখা অনেক দূর থেকে দেখা গিয়ে যাচ্ছিল।

কাতারের জ্বলানি মন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান সাদ আল কাবি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতরা ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিক। বিস্ফোরণটি ঘটে বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে। যা শিল্পগরী রাস লাফানের অংশ। এটি কাতারের সবচেয়ে বড় LNG উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র। তিনি আরও জানান ঘটনায় আহত হয়েছে ৬৬ জন। তাদের চিকিৎসা চলছে।

কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। ফলে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহে সঙ্কট তৈরি হবে। এই আশঙকায় কাতারে অগ্নিকাণ্ড সারা বিশ্বে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হামলাগুলোতে কাতারের এলএনজি সরবরাহ প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। বিস্ফোরণের আগে সেখানে পুনরায় কাজ চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এই গ্যাসের প্ল্যান্টে আগুন লাগা ভারতেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কারণ ভারতের আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কাতার থেকে আসা। ফলে এই অগ্নিকাণ্ড সকলের জন্যই চিন্তা তৈরি করেছে। সদ্য প্রকাশ্যে এল বিস্ফোরণে মৃতর তালিকা। জানা গিয়েছে, কাতারে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয়।