- Home
- World News
- International News
- পুনর্জন্ম বলে সত্যি কি কিছু হয়? পূর্বজন্ম নিয়ে বৈজ্ঞানিকদের হাতে এল গাণিতিক প্যাটার্ন
পুনর্জন্ম বলে সত্যি কি কিছু হয়? পূর্বজন্ম নিয়ে বৈজ্ঞানিকদের হাতে এল গাণিতিক প্যাটার্ন
পূর্বজন্মের স্মৃতি নিয়ে বিশেষ গাণিতিক প্যাটার্ন খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা। ১,৬৭৮টি ঘটনা বিশ্লেষণ করে মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য। আকস্মিক মৃত্যু হলে কমে যাচ্ছে পরবর্তী জন্মের ব্যবধান। পুনর্জন্ম কি তবে সত্যি? কী বলছেন গবেষকরা

পুনর্জন্মের রহস্যে নতুন গাণিতিক সূত্র
মৃত্যুর পর কী হয়, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। পুনর্জন্ম প্রমাণের মতো কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনও মেলেনি। তবে পূর্বজন্মের স্মৃতি নিয়ে করা দাবিগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ গাণিতিক প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

কী এই CORT?
শিশুদের মুখে পূর্বজন্মের স্মৃতির দাবি নিয়ে গবেষণার পোশাকি নাম Cases of the Reincarnation Type, সংক্ষেপে CORT। এই ধরনের ঘটনাকে আলাদা করে খতিয়ে দেখেন গবেষকরা।
ছয়ের দশক থেকে চলছে কাজ
ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ার ডিভিশন অফ পার্সেপচুয়াল স্টাডিজ় বিভাগ ছয়ের দশক থেকে এই গবেষণা করছে। সেখানে পূর্বজন্মের স্মৃতির দাবি করা হাজার হাজার মানুষের তথ্য জমা আছে। সেই ভাণ্ডার ঘেঁটেই মিলেছে নতুন সূত্র।
১,৬৭৮টি ঘটনার বিশ্লেষণ
Psychology of Consciousness: Theory, Research, and Practice জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্টে ১,৬৭৮টি ঘটনা খতিয়ে দেখা হয়েছে। যে মৃত ব্যক্তির জীবনের সঙ্গে শিশুর স্মৃতি মিলে গিয়েছে, তাঁকে গবেষকরা বলেছেন “Past Person”। শিশুর পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, নথিপত্রের সঙ্গেও মেলানো হয়েছে।
মৃত্যু আর জন্মের মাঝের সময়েই নজর
গবেষণার মূল চলক ছিল “Intermission Time”, অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির মৃত্যু আর শিশুর জন্মের মধ্যবর্তী সময়। ১,৩১৯টি ঘটনায় এই ব্যবধান ছিল ১৬ মাস। সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যবধান ছিল ১৫০ বছর। সেখানে একজনের দেওয়া তথ্য মিলে যায় দেড়শো বছর আগে প্রয়াত এক ব্যক্তির জীবনের সঙ্গে।
আকস্মিক মৃত্যু হলে ব্যবধান কম
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য এটাই। দুর্ঘটনা, যুদ্ধ বা হঠাৎ মৃত্যুর ক্ষেত্রে ব্যবধান গড়ে মাত্র ১২ মাস। যেখানে মৃত্যু নিশ্চিত ছিল, সেখানে গড় ব্যবধান ২১ মাস। মৃত্যু যত অপ্রত্যাশিত, ব্যবধান তত কম।
অল্প বয়সে মৃত্যুর হারও বেশি
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, “Past Person”-দের মধ্যে অস্বাভাবিক ও অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর হার সাধারণ মৃত্যুহারের চেয়ে পরিসংখ্যানের হিসেবে অনেকটাই বেশি। মৃত্যুর সময় তাঁদের বয়সও কম ছিল, গড়ে মাত্র ৩০ বছর।
সংস্কৃতির প্রভাব কি আছে?
সমালোচকরা বলতে পারেন, পুনর্জন্মে বিশ্বাসী সমাজেই এমন দাবি বেশি ওঠে। গবেষকরা স্মৃতি বিকৃতি, পারিবারিক প্রভাব, সামাজিক মর্যাদা ও গেঁথে থাকা বিশ্বাস, সবই খতিয়ে দেখেছেন। দেখা গিয়েছে, যে পরিবারের ধর্মবিশ্বাসে পুনর্জন্মের জায়গা নেই, সেখানেও ব্যবধান কমার এই প্রবণতা স্পষ্ট।
ব্যাখ্যা মিলছে মাত্র ২-৩ শতাংশ ক্ষেত্রে
গবেষকরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেননি। তাঁদের মতে, এই সূত্র দিয়ে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ ঘটনার ব্যাখ্যা সম্ভব। এ ছাড়া ব্যক্তিগত বা অন্য নির্দিষ্ট কারণও থাকতে পারে।
প্রমাণ নয়, প্রয়োজন আরও গবেষণা
হিন্দু, বৌদ্ধ ও উত্তর আমেরিকার জনজাতির কিছু বিশ্বাসের সঙ্গে এর মিল আছে। তাঁদের মতে, হঠাৎ মৃত্যুতে কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়, সেটা শেষ করতেই পুনর্জন্ম। তবে গবেষকরা পরিষ্কার জানিয়েছেন, এটি কোনও অলৌকিক যোগসূত্রের প্রমাণ নয়। মৃত্যুর পরেও চেতনা টিকে থাকে কি না, তাও এতে প্রমাণিত হয় না। আরও অনুসন্ধান দরকার।

