Moscow News: শ্যাডো ফ্লিট হল পুরনো, অস্পষ্ট মালিকানার ট্যাঙ্কার, যা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলো থেকে তেল পরিবহন করে। তারা তাদের এআইএস (ট্র্যাকিং সিস্টেম) বন্ধ করে দেয় বা নকল অবস্থান দেখায় (এআইএস স্পুফিং)।
Moscow News: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি বড় ধরনের সামুদ্রিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ, রাশিয়া এবার সেখানে সাবমেরিন ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। আর তাতেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে "শ্যাডো ফ্লিট" (গোপন জাহাজবহর)-এর ওপর অবরোধ আরোপ করেন।
এই জাহাজগুলো নিষেধাজ্ঞা এড়াতে গোপনে চোরাই তেল (ইরান, রাশিয়া এবং ভেনিজুয়েলা থেকে) পরিবহন করে। 'Bella 1' নামের ট্যাঙ্কারটি অপরিশোধিত তেল বোঝাই করার জন্য ভেনিজুয়েলার দিকে যাচ্ছিল। মার্কিন কোস্টগার্ড এটিকে আটকানোর চেষ্টা করে, কিন্তু জাহাজের কর্মীর তা প্রতিহত করে এবং জাহাজটি উত্তর দিকে পালিয়ে যায়। ধাওয়ার মুখে জাহাজটি তার নাম পরিবর্তন করে 'মেরিনেরা' রাখে, রুশ পতাকা আঁকে। এটি এখন আইসল্যান্ডের ৩০০ মাইল দক্ষিণে রয়েছে এবং রাশিয়ার মুরমানস্ক বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
রাশিয়া এর প্রতিবাদ করে এবং ধাওয়া করা বন্ধ করার জন্য আমেরিকাকে আহ্বান জানায়। মার্কিন কোস্টগার্ড পিছু না হটলে, রাশিয়া সাবমেরিন ও অন্যান্য জাহাজের সাহায্যে ট্যাঙ্কারটিকে পাহারা দেওয়া শুরু করে। রুশ গণমাধ্যম আরটি ট্যাঙ্কারটির একটি ভিডিও দেখিয়েছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জাহাজটিকে অনুসরণ করতে দেখা যাচ্ছে। এর আগে দুই মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন বাহিনী জাহাজটিতে ওঠার পরিকল্পনা করছে এবং ওয়াশিংটন এটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে জব্দ করতেই বেশি আগ্রহী। মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেছে, 'আমাদের নৌবাহিনী সতর্ক, ক্ষিপ্র এবং আগ্রহের জাহাজগুলোকে ট্র্যাক করার জন্য প্রস্তুত। যখন ডাক আসবে, আমরা সেখানে থাকব।' মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আমেরিকা গত মাসের মতো একটি অভিযান চালাতে পারে, যেভাবে মার্কিন মেরিন এবং বিশেষ অপারেশন বাহিনী কোস্ট গার্ডকে সঙ্গে নিয়ে ভেনেজুয়েলার বন্দর ছাড়ার পর গায়ানার পতাকাবাহী একটি বড় অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার 'দ্য স্কিপার' জব্দ করেছিল।
শ্যাডো ফ্লিট কী?
শ্যাডো ফ্লিট হল পুরনো, অস্পষ্ট মালিকানার ট্যাঙ্কার, যা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলো থেকে তেল পরিবহন করে। তারা তাদের এআইএস (ট্র্যাকিং সিস্টেম) বন্ধ করে দেয় বা নকল অবস্থান দেখায় (এআইএস স্পুফিং)। শত শত জাহাজের এই বহরটি রাশিয়ার অর্থনীতিকে সচল রাখতে সাহায্য করে। 'মেরিনেরা' এর আগে ইরান ও ভেনিজুয়েলার তেল চিনে পরিবহন করত এবং ২০২৪ সালে এটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে। রাশিয়া ট্যাঙ্কারটিকে রক্ষা করার জন্য একটি সাবমেরিন এবং অন্যান্য নৌযান মোতায়েন করেছে। তবে, কোনও নির্দিষ্ট সাবমেরিন বা যুদ্ধজাহাজের নাম বা মডেল প্রকাশ করা হয়নি। এই জাহাজগুলো সম্ভবত রাশিয়ার নর্দার্ন ফ্লিটের, কিন্তু এর সঠিক বিবরণ (যেমন শ্রেণি, দৈর্ঘ্য এবং অস্ত্রশস্ত্র) পাওয়া যায়নি। এটি একটি অস্বাভাবিক পদক্ষেপ, যা রাশিয়া-মার্কিন উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।
এরপর কী হতে পারে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক জলসীমায় রুশ পতাকাবাহী কোনও জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাহাজে ওঠার চেষ্টা একটি বড় সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, কারণ রাশিয়া এটিকে সার্বভৌমত্বের বিষয় বলে অভিহিত করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে, কারণ শ্যাডো ফ্লিট এখন রুশ পতাকা ব্যবহার করে পালানোর চেষ্টা করছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, নিষেধাজ্ঞার যুদ্ধ এখন প্রকাশ্যেই সমুদ্রে হচ্ছে। উভয় দেশই সতর্ক অবস্থায় আছে, তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


