West Bengal News:  ভোটার তালিকায় রয়েছে ব্যাপক অসঙ্গতি। তার মধ্যেই কাজ শেষ করার জন্য ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে কমিশন। যা নিয়ে এবার পাল্টা কমিশনের বিরুদ্ধেই সরব হলেন আধিকারিকরা। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

West Bengal News: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) ২০২৬ ঘিরে দানা বাঁধছে বড় বিতর্ক। হঠাৎ করেই হাজার হাজার ভোটারের তথ্য 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' বা যৌক্তিক অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের আধিকারিকরা। নির্বাচন কমিশনের "অবাস্তব" সময়সীমা এবং কোনও লিখিত নির্দেশিকা ছাড়া কাজ করানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) কড়া চিঠি পাঠাল ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ (APOWA)(WB)।

চিঠিতে কী অভিযোগ জানানো হয়েছে?

 চিঠিতে আধিকারিকরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রত্যেক এআরও (AERO)-কে ৩০০০ থেকে ৪০০০টি করে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' কেস দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ কাজ শেষ করা কার্যত অসম্ভব বলে দাবি করছেন তারা। আধিকারিকদের অভিযোগ, কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট লিখিত আদেশের বদলে হোয়াটসঅ্যাপ বা মৌখিক নির্দেশে কাজ করানো হচ্ছে। 

ভোটারদের নাম কাটার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এই ধরণের 'অ্যাড-হক' নির্দেশ আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।ইসিআই (ECI)-এর গাইডলাইনে ১৩টি নথি গ্রহণযোগ্য হলেও, আধিকারিকদের হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন স্কুল সার্টিফিকেট বা ফ্যামিলি রেজিস্টারের মতো নথি গ্রহণ না করা হয়। 

এর ফলে প্রকৃত ভোটারদের নামও বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকছে। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কেবলমাত্র 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' বা আগের তথ্যের সাথে মিল না থাকলেই কোনো ভোটারের নাম কাটা যাবে কি না, সে বিষয়ে লিখিত স্পষ্টিকরণ দিতে হবে। আধিকারিকরা পূর্ণ আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে স্বচ্ছ তদন্তের সুযোগ চাইছেন।

রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকের অসংখ্য অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম অফিসার ও এআরও এই চিঠিতে স্বাক্ষর করে তাঁদের উদ্বেগ জানিয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এই প্রশাসনিক টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারের ওপর প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।

অন্যদিকে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা আত্মীয়ের নাম না থাকা নো ম্যাপ ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠিয়েছিল কমিশন। বলা হয়েছিল, কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে যে কোনও একটি নথি জমা দিয়ে নিজেকে ভারতীয় ভোটার হিসাবে প্রমাণ করতে হবে শুনানিতে ডাক পাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১৩টি নথির মধ্যে একটি নথি হিসাবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জারি করা স্থায়ী ঠিকানা বা বাসস্থান সংক্রান্ত শংসাপত্রকে মান্যতা দিয়েছে কমিশন। তাই বহু ভোটারা শুনানিতে গিয়ে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন। তা জমা নেওয়াও হয়েছে। প্রথমে কমিশন জানিয়েছিল এই সমস্ত সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য কি না তা যাচাই করবেন ডিইওরা । 

এমনকি এই সার্টিফিকেট কোন আধিকারিক স্তরে ইস্যু করা হয় তা জানতে রাজ্যকে চিঠি লিখেছিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। সেই চিঠির জবাবে রাজ্য জানিয়েছিল, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষমতা দেওয়া ছিল জেলাশাসকদের হাতে। 

তারপর এই শংসাপত্র ইস্যু করেন এডিএম অর্থাৎ অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং মহকুমা শাসক বা এসডিও যারা এসআইআর কাজে ইআরওর দায়িত্ব পালন করছেন। রাজ্যের তরফে এই চিঠি পাওয়ার পরই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা জানতে চেয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল সিইও অফিস। সূত্রের খবর সেই চিঠির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এক্ষেত্রে প্রমাণ্য নথি হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।