বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া। ড্রোন ও মিসাইলের আঘাতে শহরের দুটি নামী হোটেল ও একাধিক আবাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬ জনেরও বেশি আহত। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আগেই এমন হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে মাঝরাতে ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাল রাশিয়া। বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের কেন্দ্রস্থলে নামী হোটেল এবং আবাসন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় শহরের অনেক বসতি এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

হামলায় পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী-সহ ১৬ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ড্রোন হামলায় একটি আবাসন কমপ্লেক্স পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রিমিয়ার প্যালেস এবং সিটিহোটেল রেসিডেন্স নামের দুটি নামী হোটেলে আগুন ধরে যায়। শেভচেঙ্কো বুলেভার্ডের একটি হোটেলের ছাদ ও উপরের তলা পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ার ছবি সামনে এসেছে। এছাড়া, একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের ছয়তলা ভেঙে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন এবং ক্রুজ-ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো কিয়েভের ১০টি জেলাকে টার্গেট করে ছোড়া হয়েছিল। মেয়র ভিটালি ক্লিৎস্কো জানিয়েছেন, কিয়েভের দিকে আসা বেশিরভাগ ড্রোনই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু ধ্বংস হয়ে যাওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের কারণেই শহরে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনার জন্য জোরকদমে কাজ চালাচ্ছে। অনেক জায়গায় এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। এয়ার রেইড সাইরেন বাজার পরেই হাজার হাজার মানুষ তাদের বাচ্চা এবং পোষ্যদের নিয়ে সুরক্ষিত আশ্রয়ের খোঁজে পাতাল মেট্রো স্টেশনগুলিতে চলে যান।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, রাশিয়া একটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই খবরের পরেই তিনি তাঁর আয়ারল্যান্ড সফর মাঝপথে থামিয়ে ইউক্রেনে ফিরে এসেছিলেন।