পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি করে রাশিয়ার বিপুল আয় হয়েছে। মার্চ মাসে তেল, গ্যাস এবং কয়লার গড় দৈনিক দাম ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে শুধু মার্চ মাসেই রাশিয়া ৬৭.২ কোটি ইউরো অতিরিক্ত আয় করেছে।
মস্কো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতেই রাশিয়ার পোয়াবারো। রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর প্রথম দু'সপ্তাহের মধ্যেই জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল বিক্রি করে রাশিয়া ৬০০ কোটি ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা) আয় করেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চে তেল, গ্যাস এবং কয়লার গড় দৈনিক দাম ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে শুধু মার্চ মাসেই রাশিয়া ৬৭.২ কোটি ইউরো অতিরিক্ত আয় করেছে। 'সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার'-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই বাড়তি আয়ের বেশিরভাগটাই এসেছে তেল ব্যবসা থেকে।
রিপোর্ট অনুসারে, এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খোমেইনি মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন। এরপর হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দেন। এরপরই মার্চ মাসে রাশিয়ার বিপুল আয়ের এই পরিসংখ্যান সামনে এল। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (International Energy Agency) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলিতে তেলের উৎপাদন দৈনিক ১০০ লক্ষ ব্যারেল কমে গিয়েছে, যা বিশ্ব তেলের বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকট।
জানা যাচ্ছে, রাশিয়া এই আয় মূলত ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ অন্যান্য সামরিক খাতে খরচ করছে। 'আর্গেভাল্ড' (Urgewald) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, যারা কয়লা সংস্থাগুলি নিয়ে গবেষণা করে, জানিয়েছে যে বাজার যখন আতঙ্কে থাকে, তখন স্বৈরাচারী দেশগুলো তার সুযোগ নেয়। তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে রাশিয়া বিশাল আর্থিক সুবিধা পাবে।
প্রসঙ্গত, ইরান যুদ্ধের আগের মাসগুলিতে রাশিয়ার তেলের আয় অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ভারতে রপ্তানি হ্রাস এবং পাইপলাইনে হামলার মতো ঘটনাই ছিল এর কারণ। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার এই নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি রাশিয়ার জন্য আবার বিপুল আর্থিক লাভের সুযোগ করে দিয়েছে।


