Waste Hair: সেলুনের ফেলে দেওয়া চুলেই বাঁচছে চাষের জমি! হ্যাঁ, অবাক করা হলেও সত্য়ি। মেক্সিকো সিটির প্রাচীন কৃষি ঐতিহ্য 'চিনাম্পাস' রক্ষায় অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে একটি পরিবেশবাদী সংস্থা।

Waste Hair: সেলুনের ফেলে দেওয়া চুলেই বাঁচছে চাষের জমি! হ্যাঁ, অবাক করা হলেও সত্য়ি। মেক্সিকো সিটির প্রাচীন কৃষি ঐতিহ্য 'চিনাম্পাস' রক্ষায় অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে একটি পরিবেশবাদী সংস্থা। সেলুন থেকে ফেলে দেওয়া মানুষের চুল সংগ্রহ করে তা দিয়ে দূষিত জল পরিশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। আর তাতে বাঁচছে, বাড়ছে চাষের জমি। চিনাম্পাস মূলত অ্যাজটেক আমলে তৈরি ভাসমান বা উঁচু কৃষিজমি, যা জলাভূমির ওপর গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে সোচিমিলকো এলাকায় এই প্রাচীন কৃষি পদ্ধতির বিস্তার রয়েছে। ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত গুরুত্বের কারণে এই অঞ্চলকে ইউনেসকো (UNESCO) বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মারাত্মক দূষণের শিকার

এখন মেক্সিকো সিটির ঐতিহ্যের চিনাম্পাসের খাল ও আশপাশের জল মারাত্মক দূষণের শিকার। শহরের বর্জ্য জল, অপরিশোধিত পয়ঃনিষ্কাশন, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থ খালে মিশে মাটির গুণমান ও ফসল উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। এতে এলাকার জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছে মার্কিনভিত্তিক পরিবেশ সংস্থা 'মেটার অফ ট্রাস্ট' (Matter of Trust)। তাদের 'Hair Matters' কর্মসূচির মাধ্যমে সেলুন ও বিভিন্ন বিউটিপার্লার থেকে কাটা চুল সংগ্রহ করা হয়। সেই চুল বিশেষ প্রক্রিয়ায় ম্যাট বা রোল আকারে তৈরি করে খালের জলে বসানো হচ্ছে।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

কীভাবে হচ্ছে পুরো কাজটি

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের চুলের প্রাকৃতিক গঠন এমন যে তা তেল ও বিভিন্ন দূষিত পদার্থ সহজেই শোষণ করতে পারে। অতীতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায়ও এই ধরনের চুলের ম্যাট ব্যবহার করা হয়েছে। এখন সেই একই পদ্ধতি চিনাম্পাসের খাল পরিষ্কারে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে স্থানীয় বাসিন্দারাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুল একটি সহজলভ্য, কম খরচের এবং পরিবেশবান্ধব উপাদান। যা সাধারণত আবর্জনায় ফেলে দেওয়া হয়। সেটিকেই কাজে লাগিয়ে দূষণ রোধ ও মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করার চেষ্টা চলছে। আধুনিক নগরায়ন, ভূমিধস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে চিনাম্পাসকে টিকিয়ে রাখতে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি 'সার্কুলার ইকোনমি'-র একটি সফল উদাহরণ যেখানে দৈনন্দিন বর্জ্যকেই পরিবেশ রক্ষার হাতিয়ার বানানো হচ্ছে।