মহাকাশ নিয়ে চর্চা শুরুর আদি পর্ব থেকেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন তাঁরা। একাধিক গবেষণা হয়েছে। নানা দাবি প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু নিশ্চিত কোনও উত্তর মেলেনি। মহাকাশের অন্যত্র প্রাণ থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেন না বিজ্ঞানীরা।
মহাকাশে এমন অনেক গ্রহ রয়েছে যেগুলি কোনও নির্দিষ্ট নক্ষত্রের টানে তাদের চারপাশের কক্ষপথে আবদ্ধ নয়। তারা স্বাধীন গ্রহ, স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়ায় সর্বত্র। তাদের কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়ায় কিছু উপগ্রহও। সেখানেই উঁকি দিচ্ছে প্রাণের সম্ভাবনা!
নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, কোনো নক্ষত্রের টানে আবদ্ধ না থাকা 'রগ প্ল্যানেট' বা স্বাধীন গ্রহের উপগ্রহে (চাঁদ) প্রাণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে। এই চাঁদগুলোর ঘন হাইড্রোজেন বায়ুমণ্ডল তাদের অভ্যন্তরের তাপ ধরে রাখে, যা কোটি কোটি বছর ধরে তরল জল ও প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম বলে Phys.org গবেষণায় বলা হয়েছে ।
গবেষণার বিস্তারিত দিক:
* রগ প্ল্যানেট (Rogue Planets): এই গ্রহগুলো কোনো নক্ষত্রের চারপাশে ঘোরে না, বরং মহাকাশে স্বাধীনভাবে ভেসে বেড়ায়।
* প্রাণের উপযোগী পরিবেশ (Habitability): গবেষকরা মনে করছেন, এই রগ প্ল্যানেট গুলোর চারপাশে যদি উপগ্রহ বা চাঁদ থাকে, তবে সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা আছে ।
* তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা: এই চাঁদগুলোর বায়ুমণ্ডল যদি ঘন হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত হয়, তবে তা একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কাজ করে, যা প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও অভ্যন্তরীণ তাপ ধরে রাখতে পারে।
* জোয়ারের শক্তি (Tidal Forces): মূল গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে উৎপন্ন জোয়ারের শক্তি চাঁদগুলোর ভেতরে তাপ উৎপন্ন করে, যা বরফাচ্ছন্ন উপগ্রহের নিচে তরল জলের মহাসাগর তৈরি করতে পারে।
* সময়কাল: গবেষণার মডেল অনুযায়ী, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে উপগ্রহগুলোতে ৪.৩ বিলিয়ন বছর পর্যন্ত প্রাণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে।
কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ? এতদিন বিজ্ঞানীরা প্রাণের সন্ধানে নক্ষত্রের চারপাশে ঘোরা গ্রহের ওপর জোর দিতেন। নতুন এই তত্ত্ব প্রমাণ করে যে, নক্ষত্র ছাড়াও কোনো গ্রহের চাঁদ প্রাণের আধার হতে পারে, যা মহাবিশ্বে প্রাণের সন্ধানের পরিধিকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেল ।
