Airlines Shut down: আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ শিল্পে বড় ধাক্কা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের কম খরচের বড় এক বিমান সংস্থা। আজ, শনিবার দুপুর থেকে মার্কিন জনপ্রিয় লো-কস্ট এয়ারলাইন্স স্পিরিট এয়ারলাইন্স স্থায়ীভাবে পরিষেবা বন্ধ করে দিল।

Airlines Shut down: আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ শিল্পে বড় ধাক্কা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের কম খরচের বড় এক বিমান সংস্থা। আজ, শনিবার দুপুর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় লো-কস্ট এয়ারলাইন্স স্পিরিট এয়ারলাইন্স ('Spirit Airlines') স্থায়ীভাবে পরিষেবা বন্ধ করে দিল। খুব কম টাকার টিকিটে বিমান চড়িয়ে মার্কিন মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের আকাশে ওড়ার স্বপ্নের সাধপূরণ করেছিল স্পিরিট এয়ারলাইন্স। মার্কিন আম জনতার সেই 'স্পিরিট'-এ এবার বড় ধাক্কা। সস্তায় বিমান ভ্রমণের কথা উঠলেই যে স্পিরিট এয়ারলাইন্সের কথা এতদিন সবার মুখে আসত, সেটার ঝাঁপ বন্ধ হল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কী কারণে ঝাঁপ বন্ধ

মার্কিন এই বিমান সংস্থাটি গত বছর আগস্ট থেকেই দেউলিয়া (Chapter 11 bankruptcy) প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল। আর্থিক সংকট কাটাতে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধান বের হয়নি। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য সরকারি সহায়তাও কার্যকর হয়নি। ঋণদাতা ও প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা ভেস্তে যাওয়াতেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে বিমানের জ্বালানির (জেট ফুয়েল) মূল্যবৃদ্ধি স্পিরিটের আর্থিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে কম দামের 'বেয়ার-ফেয়ার' মডেলের ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় আয় ও খরচের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

১৪ হাজার কর্মী চাকরি হারালেন

সংস্থার এই সিদ্ধান্তে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে কর্মী ও যাত্রীদের ওপর। প্রায় ১৪ হাজার কর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জানা গিয়েছে, প্রায় ৫ হাজার কেবিন ক্রুকে হঠাৎ করেই গভীর রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। কর্মী সংগঠনের পক্ষ থেকে একে 'জীবনের সবচেয়ে কঠিন খবর' বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সমস্ত বিমান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে এবং যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা আগাম টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের অন্য এয়ারলাইন্সে পুনরায় বুকিং করার কথা বলা হয়েছে। রিফান্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেউলিয়া প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মেটানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন বিমান শিল্পে বড় প্রভাব

এই বন্ধের প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন বিমান শিল্পের ওপরও। ডেট্রয়েট-সহ একাধিক বড় হাবে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট রুটগুলিতে অন্যান্য এয়ারলাইন্স পরিষেবা চালু করতে পারে, যার ফলে ভবিষ্যতে বিমান ভাড়াও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, স্পিরিট এয়ারলাইন্স তাদের উজ্জ্বল হলুদ বিমানের জন্য এবং সস্তায় বিমান ভ্রমণের ধারণাকে জনপ্রিয় করার জন্য বিশেষ পরিচিত ছিল। তবে দীর্ঘদিনের আর্থিক সঙ্কট এবং বাজারের চাপে শেষ পর্যন্ত এই সংস্থাকেও বন্ধ হয়ে যেতে হল।