৪ মার্চ গলের কাছে মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইরিস ডিনা। সেখান থেকে বেঁচে ফেরা ৩২ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। সেই উদ্ধারকাজের প্রথম ভিডিও সামনে এসেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ইরানি নাবিকদের উদ্ধার করছে। গত ৪ মার্চ, গলের উপকূল থেকে প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইরিস ডিনা-র ওপর একটি টর্পেডো হামলা হয়। সেই হামলা থেকে বেঁচে ফেরা নাবিকদেরই উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো ব্যবহার করে কোনও শত্রু জাহাজ ডুবিয়ে দিল।
শ্রীলঙ্কা শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা এই যুদ্ধের হতাহতের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। এদিকে, ইরানের আরেকটি জাহাজের ২০০-র বেশি নাবিককে আশ্রয় দিয়েছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার ওই নাবিকদের তীরে আনা হয় এবং তাদের রাজধানী কলম্বোর কাছে একটি মিলিটারি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদের জাহাজ, আইরিস বুশেহর, এখন শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে আইরিস ডিনা নামে অন্য একটি ইরানি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরেই, আইরিস বুশেহর ইঞ্জিনের সমস্যার কথা জানায় এবং বন্দরে ঢোকার অনুমতি চায়।
ওয়াশিংটন পরে এই হামলার দায় স্বীকার করে। এই হামলায় জাহাজে থাকা কমপক্ষে ৮৪ জন ইরানি নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৬৪ জন নিখোঁজ।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমারা দিসানায়েকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "আমাদের কাছে প্রতিটি জীবন নিজের জীবনের মতোই মূল্যবান।" ইজরায়েল-মার্কিন অভিযানের পর ইরানের পাল্টা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর উদ্ধার করা ৩২ জন নাবিককে গলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করা হচ্ছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এটাই প্রথম কোনও সামরিক হামলা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব বুধবার জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই কোনও আমেরিকান সাবমেরিনের প্রথম টর্পেডো হামলা।
শ্রীলঙ্কা শুধু দ্বিতীয় ইরানি জাহাজ, আইরিস বুশেহর-কে তাদের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতিই দেয়নি, বৃহস্পতিবার জাহাজের ক্রুদের কলম্বোর বাইরে একটি নৌ ঘাঁটিতেও সরিয়ে নিয়ে এসেছে।
দিসানায়েকে বলেন, "আমাদের সমস্ত পদক্ষেপ জীবন বাঁচানো এবং মানবতা রক্ষা নিশ্চিত করার জন্য।"
এই সংঘাতে শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। আমেরিকা শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় রপ্তানির বাজার, অন্যদিকে দ্বীপরাষ্ট্রের প্রধান রপ্তানি পণ্য চা-এর অন্যতম বড় ক্রেতা হল ইরান।
একজন সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইরিস বুশেহরের ২০৮ জন ক্রু-র মধ্যে চারজন ছাড়া বাকি সবাইকে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর তিনটি নৌকায় করে তীরে আনা হয়েছে। তাদের রাজধানীর কাছে একটি মিলিটারি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা এএফপি-কে বলেন, "আমাদের সেনাবাহিনী এখন জাহাজটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটিকে ত্রিনকোমালিতে নিয়ে যাওয়া হবে।" ত্রিনকোমালি বন্দরটি দ্বীপের পূর্ব দিকে অবস্থিত, যা প্রধান কলম্বো বন্দর থেকে দূরে।
তিনি আরও জানান, চারজন ইরানি নাবিক শ্রীলঙ্কার নাবিকদের সাহায্য করার জন্য জাহাজে রয়ে গিয়েছেন।
(এএফপি-র ইনপুট সহ)

