- Home
- World News
- International News
- Blue Sparrow Weapon: একটি 'নীল চড়াই'তেই কুপোকাত খামেনেই, ইজরায়েলের এই বিধ্বংসী অস্ত্র সম্পর্কে রইল তথ্য
Blue Sparrow Weapon: একটি 'নীল চড়াই'তেই কুপোকাত খামেনেই, ইজরায়েলের এই বিধ্বংসী অস্ত্র সম্পর্কে রইল তথ্য
Blue Sparrow Weapon: ঠিক কীভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে হত্যা করেছিল আমেরিকা আর ইজরায়েল। ইজরায়েলের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়েছিল ব্লু স্প্যারো নামের একটি প্রচণ্ড শক্তিশালী অস্ত্র। জানুন সেই অস্ত্র সম্পর্কে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই হত্যাকাণ্ড
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে হত্যা করেছিল ইজরায়েল আর আমেরিকা। তেহরানের কেন্দ্রস্থল পাস্তুর স্ট্রিটের একটি অফিস বাড়িতে জরুরি বৈঠক করেছিলেন ৮৬ বছরের খামেনেই। সেই সময় তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় ইজরায়েল আর আমেরিকা। তাতেই মৃত্যু হয়।
কোন অস্ত্র দিয়ে খামেনেইকে হত্যা করা হয়?
কোন অস্ত্র দিয়ে বা কী ভাবে খামেনেইকে হত্যা করা হয়েছিল তা এখনও সঠিকভাবে জানায়নি ইজরায়েল আর আমেরিকা। কিন্তু দুই দেশের প্রশাসন ও শীর্ষ আমলারা এই বিষয়ে একাধিক তথ্য দিয়েছে। তাতেই সামনে আসছে হাড়হিম করা হত্যাকাহিনি।
যে অস্ত্রে কুপোকাত খামেনেই!
ইজরায়েলের একটি দৈনিকের মতে অপারেশন এপিক ফিউরির সময় ব্যবহার করা হয়েছিল ব্ল্যু স্প্যারো নামের একটি অত্যান্ত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। এটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। ১২৪০ মাইল বা ২০০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করতে সক্ষম। নামে চড়়াই হলেও এটির টার্গেট শকুনকেও হার মানায়।
সাধারণ অস্ত্র নয়
ব্লু স্প্যারো কোনও সাধারণ অস্ত্র নয়। এটি সাধারণ F-15 যুদ্ধ বিমান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। তারপর বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে উঠে যায়। তারপর প্রবল গতিতে পৃথিবীতে ভূপাতিতত হয়। বা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে।
রিপোর্টে দাবি
ইজরায়েলের মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে খামেনেই ও তাঁর পার্ষদরা যেখানে উপস্থিত ছিলেন সেখানেই এই হামলা চালান হয়। যার ফলে সকলের মৃত্যু হয়। আঘাত আর বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো ও ধ্বংসাবশেষ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল।
৪০ জনের মৃত্যু
ইজরায়েলের কর্মকর্তারা দাবি করেছে এই হামলায় খামেনেইর সঙ্গে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। যারা ছিলেন ইরানের প্রথম সারির নেতা। নিহত হয়েছিল ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভি।
ব্লু স্প্যারোর শক্তি
ইসরায়েলে উৎপাদিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ১,২৪০ মাইল বা ১,৯৯৫ কিলোমিটার। অনেক প্রচলিত অস্ত্রের বিপরীতে, এটি একটি আধা-ব্যালিস্টিক ট্র্যাজেক্টোরি অনুসরণ করে। উৎক্ষেপণের পর, ক্ষেপণাস্ত্রটি দ্রুত উপরে উঠে যায়, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছেড়ে পুনরায় প্রবেশ করার আগে এবং তার লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে।
বায়ুমণ্ডলে বেরিয়ে আসার এবং পুনরায় প্রবেশের এই ক্ষমতা বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা বাধাদানকে জটিল করে তোলে। খাড়া পথটি স্থলভাগে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া সময়কেও হ্রাস করে।
ব্লু স্প্যারোর শক্তি
নব্লু স্প্যারো ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র পরিবারের অংশ যার মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক স্প্যারো এবং সিলভার স্প্যারো। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি মূলত স্কাড-টাইপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছিল, যা ১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাক কর্তৃক ইসরায়েলে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের অনুরূপ।
ক্ষেপণাস্ত্রের আয়তন
এই ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য ৬.৫ মিটার। ওজন ১.৯ টন। সাধারণ ইজরায়েলের এফ-১৫ জেট-সহ একাধিক যুদ্ধ বিমান থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়। যার বুস্টার রকেট ক্ষেপণাস্ত্রটিকে অবতরণ শুরুর আগে অনেক উঁচুতে উঠতে সাহায্য করে। তাই এটি যখন মাটিতে আঘাত করে তখন মাধ্যাকর্ষণ গতির নিয়ম এটি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
মাটির তলায় খামেনেই!
হামলা শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগেই নিরাপদ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন খামেনেই ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পার্ষদরা। বেশিরভাগ সন্ধ্যায় ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারেই কাটাতেন তাঁরা। রিপোর্ট অনুযায়ী আশ্রয়স্থলটি মাটির এতটাই গভীরে ছিল যে সেখানে নামতে পাঁচ মিনিট সময় লাগত। ইরান মনে করত খামেনেইর ওপর রাতেই হামলা হতে পারে। আর সেই কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ঢেলে সাজান হয়েছিল।
আমেরিকা ও ইজরায়েলও তাই পরিকল্পনা করেছিল। পরে শনিবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দিনের বেলাতেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

