শুক্রবার ইসলামাবাদে নিহত জঙ্গি কমান্ডার হামজা বুরহানের জানাজায় হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন এবং আল-বদর প্রধান বখত জামিন খান-সহ বেশ কয়েকজন কুখ্যাত জঙ্গি উপস্থিত ছিল। 'আরজুমন্দ গুলজার দার' নামেও পরিচিত এবং 'ডাক্তার' নামধারী হামজা বুরহানকে শুক্রবার ইসলামাবাদে কবর দেওয়া হয়।

শুক্রবার ইসলামাবাদে নিহত জঙ্গি কমান্ডার হামজা বুরহানের জানাজায় হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন এবং আল-বদর প্রধান বখত জামিন খান-সহ বেশ কয়েকজন কুখ্যাত জঙ্গি উপস্থিত ছিল। 'আরজুমন্দ গুলজার দার' নামেও পরিচিত এবং 'ডাক্তার' নামধারী হামজা বুরহানকে শুক্রবার ইসলামাবাদে কবর দেওয়া হয়। এর ঠিক একদিন আগেই পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে সে নিহত হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, জানাজার এই সমাবেশে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতাদের পাশাপাশি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সঙ্গে যুক্ত কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জানাজার নামাজ চলাকালীন সমাবেশস্থলকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় বিশেষভাবে নজরে আসে, বিশেষ করে আল-বদর প্রধান বখত জামিন খানকে ঘিরে নিরাপত্তা ছিল অত্যন্ত জোরদার। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জানাজার আনুষ্ঠানিকতা চলাকালীন বখত জামিন খানের চারপাশে একে-৪৭ রাইফেল ও অন্যান্য অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিদের মোতায়েন রাখা হয়েছে। এই কঠোর ও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের দ্বারা সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত যখন পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ছিল বুরহান। ওই হামলায় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) ৪০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছিলেন। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার রতনিপোরার বাসিন্দা বুরহান পরবর্তীতে বৈধ নথিপত্র ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যায় এবং সেখানে আল-বদর জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়। জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত থাকার দায়ে ২০২২ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাকে 'জঙ্গি' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

পাকিস্তান থেকে আল-বদরের কার্যক্রমের অর্থায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং তরুণদের উগ্রবাদে দীক্ষিত করার ক্ষেত্রে বুরহান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) ছদ্মবেশে বসবাস করছিল এবং শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মুজাফফরাবাদের একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল সে। স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে আসার পরপরই বুরহান হামলার শিকার হয়। অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে ভেন্টিলেটর সহায়তায় রাখা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়।

পরে পুলিশ দাবি করে যে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তারা একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি মোটরসাইকেলে চড়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন এবং পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।