রবিবার সকালে তাইওয়ানের আকাশে চিনের ১৯টি সামরিক বিমান ও ৯টি যুদ্ধজাহাজ দেখা গিয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বিমান মাঝের সীমা রেখা পেরিয়ে যায়।
রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা নাগাদ তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায় যে তাদের জলসীমার চারপাশে চিনের ১৯টি সামরিক বিমান, ৯টি নৌবাহিনীর জাহাজ এবং ২টি সরকারি জাহাজ ঘুরছে। এই ১৯টি বিমানের মধ্যে ১৩টি মাঝের সীমা রেখা (median line) পার করে তাইওয়ানের উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পূর্ব দিকের আকাশসীমায় (ADIZ) ঢুকে পড়ে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাদের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানিয়েছে, "আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত তাইওয়ানের চারপাশে চিনের ১৯টি পিএলএ বিমান, ৯টি পিএলএএন জাহাজ এবং ২টি সরকারি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বিমান মাঝের সীমা রেখা অতিক্রম করে তাইওয়ানের উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পূর্ব ADIZ-এ প্রবেশ করেছে। ROC সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং জবাব দিয়েছে।
এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ শনিবারও তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক চিনের ১৫টি নৌবাহিনীর বিমান শনাক্ত করেছিল। সকাল ১১:২১ নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। এই ১৫টির মধ্যে ১১টি বিমান তাইওয়ান প্রণালীর মাঝের সীমা রেখা পার করে উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পূর্ব ADIZ-এ ঢুকে পড়েছিল।
শনিবারের ঘটনা নিয়েও মন্ত্রক এক্স-এ জানায়, "আজ বেলা ১১:২১ থেকে J-10, J-16, KJ-500-সহ বিভিন্ন ধরনের মোট ১৫টি পিএলএ বিমান শনাক্ত করা হয়েছে। ১৫টির মধ্যে ১১টি বিমান তাইওয়ান প্রণালীর মাঝের সীমা রেখা অতিক্রম করে... নৌবাহিনীর অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে যৌথ মহড়া চালাচ্ছিল। ROC সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।
চিন কেন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, তার পিছনে এক জটিল ইতিহাস, রাজনীতি এবং আইনি যুক্তি রয়েছে। বেজিংয়ের দাবি, তাইওয়ান চিনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই নীতি তাদের দেশের আইন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তুলে ধরা হয়। কিন্তু তাইওয়ানের একটি নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। তাদের নিজস্ব সরকার, সেনাবাহিনী এবং অর্থনীতি আছে, যা স্বাধীনভাবে কাজ করে। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়ার মতে, তাইওয়ানের এই স্থিতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং হস্তক্ষেপ না করার মতো নীতিগুলির জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
তাইওয়ানের উপর চিনের দাবির শুরুটা হয়েছিল ১৬৮৩ সালে, যখন চিং (Qing) বংশ মিং অনুগত কক্সিংগাকে (Koxinga) হারিয়ে দ্বীপটি দখল করে। কিন্তু তখনও তাইওয়ান চিং সাম্রাজ্যের একটি প্রান্তিক অঞ্চল ছিল এবং নিয়ন্ত্রণ ছিল সীমিত। বড় পরিবর্তন আসে ১৮৯৫ সালে, যখন প্রথম চিন-জাপান যুদ্ধের পর চিং রাজবংশ তাইওয়ানকে জাপানের হাতে তুলে দেয়। এরপর ৫০ বছর তাইওয়ান জাপানের উপনিবেশ ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হারের পর তাইওয়ান চিনের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে, কিন্তু সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। ১৯৪৯ সালে চিনের গৃহযুদ্ধের ফলে মূল ভূখণ্ডে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (PRC) প্রতিষ্ঠিত হয়, আর রিপাবলিক অফ চায়না (ROC) সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে যায় এবং সমগ্র চিনের উপর তাদের শাসন দাবি করে। এর ফলে দুই পক্ষই সার্বভৌমত্বের দাবিদার হয়ে ওঠে: PRC মূল ভূখণ্ডের উপর এবং ROC তাইওয়ানের উপর। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়া জানায়, তাইওয়ান কার্যত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে, কিন্তু চিনের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এড়াতে তারা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেনি। (ANI)
