বিশ্বজুড়ে তেলের সংকটের মধ্যেই উত্তর আফগানিস্তানের আমু দরিয়া তেলক্ষেত্র থেকে অপরিশোধিত তেল তোলা শুরু করেছে তালিবান। পাঁচটি নতুন কূপ থেকে প্রতিদিন ৫০০ কিউবিক মিটার তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। চিনা সংস্থাগুলির আগ্রহের মাঝে এই পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উস্কে দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যখন সংকট চলছে, ঠিক তখনই বড় খবর এল আফগানিস্তান থেকে। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার ফলে অনেক দেশেই পেট্রোল-সহ জ্বালানির অভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই উত্তর আফগানিস্তানের আমু দরিয়া তেলক্ষেত্রের পাঁচটি নতুন কূপ থেকে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল তোলা শুরু করার কথা ঘোষণা করল তালিবান সরকার। দেশের খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এই খবর নিশ্চিত করেছে।
আমু দরিয়া তেলক্ষেত্র
তালিবান নিয়ন্ত্রিত খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের মুখপাত্র হুমায়ুন আফগান জানিয়েছেন, জাওজান প্রদেশের আমু দরিয়া তেল বেসিনের জামারুদ সাই এলাকায় এই তেল তোলার কাজ চলছে। হুমায়ুন তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, গত সোমবার তালিবানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওই প্রদেশ সফরে যান এবং তেল উৎপাদন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এই দলে ছিলেন অর্থনৈতিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বরাদর, খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মোল্লা হেদায়েতুল্লাহ বদরি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
দৈনিক ৫০০ কিউবিক মিটার উৎপাদনের লক্ষ্য
হুমায়ুন আফগান আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই পাঁচটি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ কিউবিক মিটার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আফগানিস্তানের হাইড্রোকার্বন সমৃদ্ধ এলাকাগুলির মধ্যে আমু দরিয়া বেসিনকে দেশের অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস বলে মনে করা হয়। সম্প্রতি তালিবান এই এলাকাটির সম্প্রসারণ করেছে। গত ছয় মাসে জামারুদ সাই এলাকায় ৪০০ কিলোমিটার জুড়ে নতুন ভূকম্পন সমীক্ষা (seismic survey) চালানো হয়, যার ফলেই এই তেলক্ষেত্রের সন্ধান মেলে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখানে বিপুল পরিমাণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার রয়েছে।
মোট ১২টি তেলকূপ
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আফগান ইঞ্জিনিয়ারদের তিন বছরের ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা, গবেষণা এবং ড্রিলিং-এর পর ওই এলাকায় মোট বারোটি কূপের সন্ধান পাওয়া যায়। তার মধ্যে পাঁচটি থেকে এখন পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে। তালিবান দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে নিয়মমাফিক কাজে লাগানোর জন্য বড়সড় পরিকল্পনা তৈরি করছে। ইতিমধ্যেই তালিবান সরকার দেশজুড়ে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং খনিজ ভান্ডার উত্তোলনের জন্য একাধিক দেশি-বিদেশি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সই করেছে।
চিনের আগ্রহ
কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চিনের 'জিনজিয়াং সেন্ট্রাল এশিয়া পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি' ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের তেল খনি ক্ষেত্রে কয়েকটি চুক্তি সই করেছে। তবে, আফগানিস্তানে এখনও পর্যন্ত যে তেলের ভান্ডার পাওয়া গেছে, তা বিশ্বের চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। তাছাড়া, দেশের পরিকাঠামোর অভাব এবং তালিবান সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের ঘাটতি, আফগান তেলকে বিশ্ব বাজারে পৌঁছনোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


