মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত প্রায় শেষের মুখে। আলোচনা থমকে থাকলেও তাঁর বিশ্বাস, তেহরান মরিয়া হয়ে চুক্তি করতে চাইছে। ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত প্রায় শেষের দিকে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমাতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা আপাতত থমকে থাকলেও, ট্রাম্প কিন্তু বেশ আশাবাদী। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয়, এটা প্রায় শেষ। আমি তো দেখছি এটা শেষের খুব কাছে চলে এসেছে।"

চুক্তি করতে মরিয়া তেহরান, দাবি ট্রাম্পের

তিনি আরও বলেন যে আমেরিকা এখন কৌশলগতভাবে বেশ সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। তাঁর কথায়, "আমি যদি এখনই সব গুটিয়ে নিই, তাহলে ওই দেশটা পুনর্গঠন করতে ওদের ২০ বছর লেগে যাবে। আর আমরা এখনও কাজ শেষ করিনি, তবে দেখা যাক কী হয়।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন যে তেহরান "খুব মরিয়া হয়ে" একটা চুক্তি করতে চাইছে। "আমার মনে হয়, ওরা খুব খারাপভাবে একটা চুক্তি করতে চাইছে।"

দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জল্পনা

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই ওয়াশিংটন আর তেহরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে।

সিএনএন সূত্রের খবর, আমেরিকা ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের কথা ভাবছে। এবারও সম্ভবত মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর বৈঠকের সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে ইসলামাবাদের নামই উঠে আসছে।

সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাই জ্যারেড কুশনারও এই বৈঠকে থাকতে পারেন। যুদ্ধের আগে থেকেই এই দুজন কূটনৈতিক আলোচনার দায়িত্বে রয়েছেন।

চলমান সংঘাত শেষ করতে একটি কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব ট্রাম্প তাঁর এই তিন সিনিয়র উপদেষ্টাকেই দিয়েছেন। সম্প্রতি ইরানের আধিকারিক ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরেও ভ্যান্স, উইটকফ এবং কুশনার যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

তবে, দ্বিতীয় দফার বৈঠকের খুঁটিনাটি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এক মার্কিন আধিকারিক সিএনএন-কে জানিয়েছেন, "ভবিষ্যৎ আলোচনার কথা চলছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।" (এএনআই)