- Home
- World News
- International News
- Donald Trump: 'জানি না , জানতে চাইও না'! ইরানকে আর গুরুত্ব দিতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
Donald Trump: 'জানি না , জানতে চাইও না'! ইরানকে আর গুরুত্ব দিতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
Trump Dismisses Iran Talks: ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান নিয়ে কড়া মনোভাব দেখালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরান আবার আলোচনায় বসতে চায় কি না, তা নিয়ে তিনি 'কিছু জানেনও না, জানতেও চান না'।

ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা
ইরান-আমেরিকার মধ্যে স্থিতাবস্থা রাখতে ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনা থেকে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরে আবারও উত্তেজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আবারও ইরানকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
ইরান নিয়ে উদাসীন ট্রাম্প!
রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে কার্যত তাঁর উদাসীনতার কথাই জানালেন। ইসলামাবাদে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবার আলোচনায় বসবে কি না, সেই প্রশ্নে ট্রাম্পের সোজাসাপ্টা জবাব, "জানি না। জানতেও চাই না।"
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের দাবি
জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এখন "খুব খারাপ অবস্থায়" আছে এবং "খুবই মরিয়া" হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা মার্কিন সামরিক অভিযানের পর ইরানের সামরিক ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ইরানের সমরাস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের মত
ট্রাম্পের কথায়, তেহরানের মিসাইল ভান্ডার এবং উৎপাদন ক্ষমতা "বেশিরভাগটাই শেষ" হয়ে গিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, "আমি জানি না। ওরা আলোচনায় ফিরবে কি না, তা নিয়ে আমার কিছু যায় আসে না। যদি না ফেরে, আমার কোনও সমস্যা নেই। ওদের সামরিক বাহিনী শেষ। ওদের মিসাইল প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। মিসাইল আর ড্রোন তৈরির ক্ষমতাও প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমরা তো খুবই সংযম দেখিয়েছি। খুব বেশি সেতু ভাঙিনি।"
ইরানের থেকে আমেরিকার অবস্থা ভালো: ট্রাম্প
ট্রাম্পের দাবি, "আমার মনে হয় ইরান খুব খারাপ অবস্থায় আছে। ওরা খুবই মরিয়া। আমাদের একটা বৈঠক ২১ ঘণ্টা ধরে চলেছে। আমরা পরিস্থিতিটা অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো বুঝি।"
হরমুজ নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির চুক্তির শর্ত মানেনি তারা। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খোলার প্রতিশ্রুতি রাখেনি। তিনি ইরানের নেতৃত্বকে 'মিথ্যাবাদী' বলেও আক্রমণ করেন। ট্রাম্প বলেন, "ওদের প্রতিশ্রুতি ছিল যে ওরা হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে। কিন্তু ওরা তা করেনি। ওরা মিথ্যে বলেছে।"
পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কড়া ট্রাম্প
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, "ইরান কোনওদিন পরমাণু অস্ত্র পাবে না। কোনওভাবেই তারা এটা হাতে পাবে না।" তিনি যোগ করেন, ইরান এই ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও আমেরিকা তা রুখে দেবে।
হরমুজ অবরোধ কার্যকর: ট্রাম্পের
আরও কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করে ট্রাম্প জানান, পরের দিন সকাল ১০টা থেকে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ শুরু হবে। এর মূল উদ্দেশ্য ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করা। তিনি জানান, অন্যান্য দেশও এই পদক্ষেপে সহযোগিতা করছে, যা তাঁর মতে "খুবই কার্যকর" হবে।
ইরানের তেল বিক্রিতে বাধা
প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, কিছু জাহাজ তেল পরিবহনের জন্য প্রচলিত পথ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং এই পরিস্থিতিও "ঠিক করা হবে"। ট্রাম্প বলেন, "কাল সকাল ১০টায় আমাদের অবরোধ কার্যকর হচ্ছে। অন্যান্য দেশও কাজ করছে যাতে ইরান তেল বিক্রি করতে না পারে, এবং এটা খুবই কার্যকর হবে।"
"বিশ্বজোড়া তোলাবাজি"
এর আগে, ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ একটি পোস্টে নিশ্চিত করেন যে মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে জাহাজ আটকানো শুরু করবে। ট্রাম্প লেখেন, "এখন থেকেই, বিশ্বের সেরা মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে ঢোকা বা বেরোনোর চেষ্টাকারী সমস্ত জাহাজকে আটকানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, তাঁদের লক্ষ্য হল এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা যেখানে সব জাহাজই অবাধে চলাচল করতে পারবে। কিন্তু ইরানের কার্যকলাপের জন্য বর্তমান অবরোধ জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি ইরানের এই আচরণকে "বিশ্বজোড়া তোলাবাজি" (WORLD EXTORTION) বলে আখ্যা দেন। এদিকে, ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা আলোচনা রবিবার নিষ্ফলা অবস্থাতেই শেষ হয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনও চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। এই অচলাবস্থার মধ্যেই তিনি আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেন।

