Iran Nuclear Deal: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হয় ১০-১৫ দিনের মধ্যে চুক্তি করতে হবে, নাহলে ফল 'দুর্ভাগ্যজনক' হবে। এই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় ব্যাপক সেনা মোতায়েন করেছে আমেরিকা। 

ইরানকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চুক্তি করার জন্য হাতে সময় মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন। নাহলে ফল 'দুর্ভাগ্যজনক' হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমরা হয় একটা চুক্তি করব, নাহলে ওদের জন্য ব্যাপারটা দুর্ভাগ্যজনক হবে... ১০-১৫ দিনই যথেষ্ট সময়।"

ট্রাম্পের হুমকি

এর আগেও 'বোর্ড অফ পিস'-এ একই রকম হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, "এখন ইরানের উচিত আমাদের সঙ্গে সেই পথে আসা, যা আমরা করছি। ওরা যদি আমাদের সঙ্গে আসে, তাহলে খুব ভালো। আর যদি না আসে, তাহলেও ভালো। তবে সেই পথটা হবে একদম অন্যরকম।" ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, তেহরান এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করা চালিয়ে যেতে পারে না। তাঁর কথায়, "ওরা গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে থাকতে পারে না। ওদের একটা চুক্তি করতেই হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে খারাপ কিছু ঘটবে।"

কঠোর ওয়াশিংটন

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি বলেন, "আমাদের হয়তো আরও এক ধাপ এগোতে হতে পারে, অথবা নাও হতে পারে। হয়তো আমরা একটা চুক্তি করে ফেলব। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই আপনারা সবটা জানতে পারবেন।"

মার্কিন সেনার টার্গেট ইরান

সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ায় বড়সড় সেনা এবং নৌবাহিনী পাঠিয়েছে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এটাই ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সেনা মোতায়েন। সিএনএন সূত্রের খবর উল্লেখ করে জানিয়েছে, মার্কিন সেনা এই সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি ছাড়তে হবে। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে। গত বছর জুন মাসে আমেরিকা ১২ দিনের একটি যুদ্ধ চালিয়েছিল। সেই সময় ইরানের একাধিক সামরিক এবং পারমাণবিক ঘাঁটিতে হামলা করা হয়।

ইরানের পথে রণতরী

একটি নিউ ইয়র্ক টাইমস (NYT) রিপোর্টে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনার এই সমাবেশে কয়েক ডজন রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার, ৫০টিরও বেশি অতিরিক্ত ফাইটার জেট এবং দুটি এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার এবং সাবমেরিন।

NYT জানিয়েছে, বুধবার বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড জিব্রাল্টার পার করছিল। সেটি ওই অঞ্চলে থাকা আর একটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে যোগ দেবে।

গত এক মাসে মার্কিন সেনা পশ্চিম এশিয়ায় প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স এবং টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (THAAD) সিস্টেমের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। এই সিস্টেমগুলি ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল রুখে দিতে সক্ষম।