ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিলটিতে ইরানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হোক। রবিবার তিনি বলেন, রিপাবলিকানদের উচিত এই বিলে ইরানকে যুক্ত করা। এই বিলটি প্রয়াত সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মস্তিষ্কপ্রসূত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর জন্য যে বিল আনা হচ্ছে, তাতে ইরানের নামও জুড়ে দেওয়া উচিত। রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে' একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, "রিপাবলিকানদের উচিত রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা বিলে ইরানকে যুক্ত করা। লিন্ডসে ঠিক এটাই করতে চেয়েছিলেন, এবং সেটাই হওয়ার কথা ছিল। এটা জরুরি!!!" ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে অবশ্য ট্রাম্প বলেছিলেন, আমেরিকা-ইরান সমঝোতা স্মারক (MoU) ইরান মানছে কি না, তা নিয়ে তিনি "বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন"।
আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি তখন স্পষ্ট করে দেন যে ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য হল তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানো। ট্রাম্পের এই পোস্টটি প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আনা 'স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট' বিলের দিকে ইঙ্গিত করে। বৃহস্পতিবার ৬০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনেটরের একটি দ্বিদলীয় গোষ্ঠী রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর জন্য একটি সংশোধিত বিল পেশ করেছে। এই বিলটি রাশিয়ার শক্তি সম্পদ কেনে এমন দেশগুলোকে নিশানা করবে। আগে ঢালাও শুল্কের প্রস্তাব থাকলেও, এখন নির্দিষ্ট কিছু দেশকে টার্গেট করা হচ্ছে। প্রয়াত সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর কয়েকদিন পর এই বিলটি আনা হয়। তাঁর মৃত্যুর আগে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে আলোচনার পরই বিলের সংশোধনীতে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। 'সেনেটর লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট অফ ২০২৬' নামের এই বিলটি পেশ করেছেন সেনেটর জিন শাহিন, রিচার্ড ব্লুমেনথাল এবং ডারলাইন গ্রাহাম। বিলের উদ্যোক্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে মদত দেওয়ার জন্য যারা রাশিয়ার থেকে তেল ও গ্যাস কিনছে, তাদের জবাবদিহি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। সরকারি প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে গত সপ্তাহে লিন্ডসে গ্রাহাম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেন এবং বিলের সংশোধিত সংস্করণের জন্য হোয়াইট হাউসের সম্মতি আদায় করেন। গ্রাহাম এবং ব্লুমেনথাল প্রথমবার এই নিষেধাজ্ঞা বিলটি এনেছিলেন এপ্রিল ২০২৫-এ। বিলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বদল আনা হয়েছে। যেমন:
আগে ঢালাওভাবে ৫০০ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হলেও, এখন রাশিয়ার থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনে এমন প্রথম পাঁচটি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব রয়েছে।
তবে যে সব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে।
নতুন বিলে আরও বলা হয়েছে, যে পাঁচটি দেশ রাশিয়াকে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করছে, তাদের ওপরও ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো যাবে।
অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আইনের মতোই, এই বিলের ছাড়ের ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে।
রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য ব্যবহৃত জাহাজের বিরুদ্ধে 'শ্যাডো ফ্লিট স্যাংশনস অ্যাক্ট' এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পকে চীনের সমর্থনের বিরুদ্ধে 'স্টপ রাশিয়া-চায়না অ্যাক্ট'-কেও এই বিলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানুয়ারি মাসেও ট্রাম্প এই বিলটিকে সমর্থন করেছিলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো।
