- Home
- World News
- International News
- Trump Threat: ট্রাম্পের হুমকিতে বৈঠকের দফারফা! সুইজারল্যান্ডে আলোচনা ছাড়ল ইরান, আবার কি শুরু যুদ্ধ?
Trump Threat: ট্রাম্পের হুমকিতে বৈঠকের দফারফা! সুইজারল্যান্ডে আলোচনা ছাড়ল ইরান, আবার কি শুরু যুদ্ধ?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জেরে সুইজারল্যান্ডে চতুর্দেশীয় বৈঠক থেকে সরে এল ইরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের পরেও তেল বিক্রি ও আটকে থাকা অর্থ ছাড়ার মতো বিষয়ে আলোচনা চলবে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা
সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টকে চলছিল আমেরিকা, ইরান, কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যে চতুর্দেশীয় বৈঠক। কিন্তু রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক হুমকির জেরে সেই আলোচনা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল ইরান।

বৈঠক ছাড়ল আলোচনা চলবে!
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন তাঁরা আলোচনা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে তিনি এও বলেছেন যে, চতুর্দেশীয় বৈঠক স্থগিত হলেও ইরানের তেল বিক্রি, আটকে থাকা অর্থ ছাড় এবং হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা জারি থাকবে।
ট্রাম্পের হুমকিতেই বৈঠক স্থগিত
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং (IRIB)-কে বাঘাই জানান, ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে প্রযুক্তিগত স্তরে আলোচনা ভালোই এগোচ্ছিল। কিন্তু আচমকা ট্রাম্প তেহরানকে হুমকি দেন। ট্রাম্পের এই হুমকির পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায় ইরান।
ট্রাম্পের হুমকি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, লেবাননে ইরান যদি তার "highly paid proxies"-দের মদত দেওয়া বন্ধ না করে, তাহলে ইরানের ওপর "খুব কড়া" আঘাত হানা হবে। ভারতীয় সময় রবিবার বৈঠক চলাকালীনই এই কথা বলেন ট্রাম্প।
ইরানের দাবি
এই হুমকির পরেই ইরান চতুর্দেশীয় বৈঠক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। বাঘাই বলেন, "লেবানন-সহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষ হতে হবে।" তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনার জন্য বাকি থাকা শর্তগুলো নিয়েও কথা হচ্ছিল। মুখপাত্রের কথায়, তেল বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দেওয়া এবং ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছাড়ার মতো বিষয়গুলো নিয়েও কথা হয়েছে এবং দুই ক্ষেত্রেই বেশ ভালো অগ্রগতি হয়েছে।
হরমুজে স্বস্তি!
IRIB তাঁকে উদ্ধৃত করে লেখে, "তেল বিক্রির জন্য লাইসেন্স ইস্যু করা এবং ইরানের সম্পদ ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভালো অগ্রগতি হয়েছে।" বাঘাই দাবি , হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়ে জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি জানান, রবিবার সকাল থেকে দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নিয়েছিল ইরান। কিন্তু চতুর্দেশীয় বৈঠকের সময়েই উত্তেজনা বাড়ে।
বৈঠকের মধ্যেই আমেরিকার হুমকি আমেরিকার হতাশা
বাঘাই বলেন, "চতুর্দেশীয় বৈঠকের সময়েই আমেরিকার ওই হুমকিমূলক বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়। এরপরেই ইরান জানিয়ে দেয় যে এই পরিস্থিতিতে তারা আর চতুর্দেশীয় বৈঠক চালিয়ে যেতে রাজি নয়।" ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এমবি গালিবাফ এই মন্তব্যকে আমেরিকার 'হতাশার লক্ষণ' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের মন্তব্যের কোনও প্রভাব পড়বে না।
ইরান ভয় পায় না বলে দাবি
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর, ইরানের পক্ষে প্রধান আলোচক গালিবাফ এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে বলেন, ওয়াশিংটনের এই ধরনের হুমকিতে ইরান ভয় পাবে না। প্রয়োজনে দেশের সশস্ত্র বাহিনী জবাব দিতে প্রস্তুত। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে হিজবুল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করে ইরানকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি লেখেন, "লেবাননে নিজেদের highly paid PROXIES-দের ঝামেলা পাকানো থেকে ইরানকে অবিলম্বে থামাতে হবে। যদি তারা তা না করে, আমরা ইরানের ওপর আবার খুব কড়াভাবে আঘাত হানব, গত সপ্তাহের চেয়েও কড়াভাবে!!!"
পাকিস্তান ও কাতারের ভূমিকা
মুখপাত্রের মতে, কাতার ও পাকিস্তান চার পক্ষের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ইরান রাজি হয়নি। তিনি বলেন, "কাতার ও পাকিস্তান আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমরা জানিয়ে দিই যে এটা আর চতুর্দেশীয় ফরম্যাটে হবে না।" বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের অবস্থান হল প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে উদ্বেগের আবহে এটি জরুরি। তিনি আরও জানান, একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে সমঝোতা স্মারকের অধীনে থাকা বাধ্যবাধকতাগুলি কার্যকর হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। IRIB-কে তিনি বলেন, "এই পর্যায়ে আলোচক দলের কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু টেকনিক্যাল টিম আগামীকালও তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।"
ইরানের দাবি
মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান ১৮ ঘণ্টার এই বৈঠকে হওয়া চুক্তিগুলির একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করবে। তিনি শেষে বলেন, সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তেল বিক্রি এবং আটকে থাকা অর্থ ছাড় পাওয়া ছিল অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।

