Pharma Tariff: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেটেন্ট করা ওষুধের আমদানির উপর ১০০% শুল্ক চাপিয়েছেন। তবে ভারতের জন্য স্বস্তির খবর হল, জেনেরিক ওষুধকে আপাতত এর বাইরে রাখা হয়েছে। এর ফলে ভারতের ওষুধ শিল্পে মিশ্র প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটা সিদ্ধান্তে ভারতের ওষুধ শিল্পে ভালো-মন্দ দুই রকমের প্রভাবই পড়তে চলেছে। তিনি পেটেন্ট করা ওষুধ আমদানির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা আর সাপ্লাই চেনের ঝুঁকির কথা বলে ‘সেকশন ২৩২’ তদন্তের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হল, জেনেরিক ওষুধকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জেনেরিক ওষুধের বাজারে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর বড় দখল রয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ওষুধে ১০০% শুল্ক আরোপ

মার্কিন ঘোষণায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, 'আপাতত' জেনেরিক ওষুধকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং এই ধরনের পণ্যের উপর 'সেকশন ২৩২ শুল্ক চাপানো হবে না'। এর ফলে ভারতের উপর এর প্রভাব হবে মিশ্র। স্বল্পমেয়াদে, জেনেরিক ওষুধকে ছাড় দেওয়ায় আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কম দামি ওষুধের ব্যবসা চলতে থাকবে। মার্কিন জেনেরিক ওষুধের বাজারে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর বড় অংশীদারিত্ব থাকায় এখনই বড় কোনও ধাক্কা লাগবে না। হোয়াইট হাউসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা ANI-কে জানিয়েছেন, "জেনেরিক ওষুধ, যা ভারতের ওষুধ রপ্তানির একটা বড় অংশ, তাকে শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে বাণিজ্য দপ্তর জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং সেই অনুযায়ী শুল্কের বিষয়টি আবার বিবেচনা করবে।"

কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ছবিটা বেশ জটিল। পেটেন্ট করা ওষুধ আর অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (API)-এর উপর এই শুল্কের প্রভাব গোটা সাপ্লাই চেনে পড়তে পারে। এই সাপ্লাই চেনে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর একটা বড় ভূমিকা আছে, বিশেষ করে কন্ট্র্যাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে কাঁচামাল জোগানোর ক্ষেত্রে। ওই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করে বলেন, "পেটেন্ট করা পণ্যের উপর ১০০% শুল্ক প্রযোজ্য হবে। ভারত থেকে আমদানি করা এমন কোনও পেটেন্টযুক্ত ওষুধ, যা উৎপাদন দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা জমা দিয়ে অনুমোদন পায়নি, সেগুলোর উপর ১০০% শুল্ক চাপানো হবে।" এই ঘোষণা থেকে পরিষ্কার, আমেরিকা তাদের সাপ্লাই চেনকে আর বিদেশের উপর নির্ভরশীল রাখতে চায় না।

ভারতের ওষুধ শিল্পে প্রভাব

এর ফলে মার্কিন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভারত বা অন্য দেশ থেকে তাদের উৎপাদন সরিয়ে নিতে পারে। একই সঙ্গে, আমেরিকায় উৎপাদন ও গবেষণা (R&D) ফিরিয়ে আনার জন্য যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের অভিমুখও বদলে যেতে পারে। এর ফলে ভারতের ওষুধ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। এই নতুন শুল্ক ২০২৬ সালের জুলাই এবং সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। মার্কিন প্রশাসন সিদ্ধান্ত বদল না করলে এই নিয়মই চালু থাকবে।

ট্রাম্পের ঘোষণাপত্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, "ওষুধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (API)... এমন পরিমাণে এবং এমন পরিস্থিতিতে আমদানি করা হচ্ছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে।" ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, "দেশে বিক্রি হওয়া প্রায় ৫৩ শতাংশ পেটেন্টযুক্ত ওষুধ দেশের বাইরে তৈরি হয়", আর "মাত্র ১৫ শতাংশ পেটেন্টযুক্ত API" আমেরিকায় তৈরি হয়। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এই নির্ভরতার কারণে "বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেনে কোনও সমস্যা হলে জীবনদায়ী ওষুধ পাওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।" নতুন নিয়ম অনুযায়ী, "পেটেন্ট করা ওষুধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত উপাদান আমদানির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে।" যেসব কোম্পানি তাদের উৎপাদন আমেরিকায় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদের সাময়িক ছাড় দেওয়া হবে। প্রথমে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হলেও, চার বছরের মধ্যে "এই হার বেড়ে ১০০ শতাংশ হয়ে যাবে।" মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলেছে যে, পেটেন্ট করা ওষুধ "ক্যান্সার, বিরল রোগ, অটোইমিউন ডিজঅর্ডার, সংক্রামক রোগ এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তারা আরও বলেছে, "জাতীয় প্রতিরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য... একটি স্বনির্ভর দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা" থাকা দরকার।