আইপিএলে প্রথম পর্বে চেন্নাইয়ের কাছে হারের বদলা নিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ধোনির দলকে ১০ উইকেটে হারাল চারবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে মাত্র ১১৪ রান করে চেন্নাই। দুরন্ত বল করেন বোল্ট, বুমরা, রাহল চাহাররা। চেন্নাইয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন স্যাম কুরান। মুম্বইয়ের হয়ে অনবদ্য ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন ইশান কিষাণ। ৭ ওভার ৪ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এদিন টেসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তার সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল তা পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই প্রমাণ করে দেন বুমরা-বোল্টরা। প্রথম ওভারেই খাতা না খুলে ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। দ্বিতীয় ওভারে পরপর দুটি উইকেট নিয়ে চেন্নাইকে জোর ধাক্কা দেন বুমরা। আউট হন অম্বাতি রায়ডু ও এন জগদিশান। তৃতীয় ওভারে ফর্মে থাকা ফাফ ডুপ্লেসিকে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান বোল্ট। তিনি করেন ১ রান। প্রথম ৩ ওভারে  সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় ৩ রানে ৪ উইকেট। ষষ্ঠ ওভারে বোল্টের শিকার হন জাদেজা। ৭ রান করে আউট হন তিনি। ব্যাট হাতে এদিন ফের নিরাশ করেন ধোনি। সপ্তম ওভারে রাহুল চাহরের বলে ১৬ রান করে আউট হন তিনি। নবম ওভারে দলের ৪৩ রানের মাথায় সপ্তম উইকেট পড়ে সিএসকের। রাহুল চাহরের বলে আউট দীপক চাহর। 

এরপর ইনিংসের রাশ কিছুটা ধরার চেষ্টা করেন স্যাম কুরান ও শার্দুল ঠাকুর। চেন্নাইয়ের হয়ে একদিক থেকে লড়াই চালিয়ে যান স্যাম কুরান। উইকেট বাঁচানোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্বক শটও খেলেন তিনি। ২৮ রানের পার্টনারশিপ করার পর ১৫ তম ওভারে অষ্টম উইকেটে.র পতন হয় চেন্নাই সুপার কিংসের। কুল্টারনাইলের বলে ১১ রান করে আউট হন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন এবারের আইপিএলে প্রথম সুযোগ পাওয়া ইমরান তাহির। স্যাম কুরানের সঙ্গে এগিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। উইকেট না হারিয়ে ধীরে ধীরে চেন্নাইয়ের স্কোর সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দুজন। বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্বক শটও খেলেন তাহির ও স্যাম কুরান। নবম উইকেটে আইপিএলের ইতিহাসে সবথেকে বেশি ৪৪ রানের পার্টনারশিপ করেন তারা। ২০-তম ওভারে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন স্যাম কুরান। তবে শেষ বলে বোল্টের বলে আউট হন তিনি। ২০ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় ১১৪ রানে ৯ উইকেট।

মাত্র ১১৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে আক্রমণাত্বক ইনিংস খেলা শুরু করেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দুই ওফেনার ইশান কিষাণ ও কুইন্টন ডিকক। সিএসকে বোলারদের একের পর পর এক বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি মারেন দুই ব্যাটসম্যান। প্রথমে উইকেট নিয়ে মুম্বইকে ঝটকা দেওয়ার চেষ্টা করললেও, ব্যার্থ হন দীপক চাহার, শার্দুল ঠাকুর, জস হ্যাজেলউডরা। বিশেষ করে বেশি আক্রমণাত্বক ইনিংস খেলেন ইশান কিষাণ। নিজেদের মধ্যে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও পূরণ করেন ডিকক ও ইশান কিষাণ জুটি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৫৬ রান। পাওয়ার প্লে-তেই ম্যাচ পুরোপুরি যে একতরফা তা আরও একাবর প্রমাণ করে দেন ইশান কিষাণ ও কুইন্টন ডিকক। মাঝে কিছু ম্যাচ ছন্দে না থাকলেও, এদিন ফের নিজের চেনা ছন্দেই ব্যাট করতে দেখা যায় ইশান কিষাণকে। অপরদিকে উইকেটের পেছনে একাধিক ক্যাচ ধরার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও নিজের ভাল ফর্ম জারি রাখেন কুইন্টন ডিকক।

পাওয়ার প্লের পরও নিজের ঝোড়ো ইনিংস চালিয়ে যান ইশান কিষাণ। ৮ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৭৪ রান। ১০ ওভারে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করে ইশান কিষাণ। মাত্র ৩১ বলে অর্ধশতরান করেন তিনি। ৬টি চার ও ৩টি ছয় নারেন তিনি। এরপরও নিজের আক্রমণাত্বক ইনিংস চালিয়ে যান তিনি। পরপর দুটি ছয় মারেন ইশান কিষাণ। ১০ ওভার শেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৯৮ রান। ১১ তম ওভারে আক্রমণাত্বক শট খেলেন কুইন্টন ডিকক। ১১ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ১০৮ রান। ১৩ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন ইশান কিষাণ ও ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন কুইন্টন ডিকক। ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতে ফের লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌছে গেল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।