আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে তেমন লড়াই দিতে পারল না কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। ৪৮ রানে ম্যাচ জিতল রোহিত শর্মার দল। প্রথমে ব্যাট করেন ১৯১ রান করে মুম্বই। দলের হয়ে ৭০ রাবের অনবদ্য ইনিংস খেলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ঝোড়ো ইনিংস খেলেন হার্দিক পান্ডিয়া ও কায়রন পোলার্ড। জবাবে রান তাড়া করতে নেম পঞ্জাবের ইনিংস শেষ হয় ১৪৩ রানে। এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিংস ইলেভেন পঞ্জাব অধিনায়ক কেএল রাহুল। মুম্বইয়ের হয়ে ওপেন করে নেমে এদিনও নিরাশ করেন কুইন্টন ডিকক। প্রথম ওভারেই শেলডন কটরেলের বলে কোনও রান না করে আউট হন তিনি। এরপর নামেন সুর্যকুমার যাদব। তিনি রোহিত শর্মার সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, তার ভাগ্য সাথ দেননি। চতুর্থ ওভারে মাত্র ১০ রান করে রান আউট হয়ে যান তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন গত ম্যাচের ট্র্যাজিক হিরো ইশান কিষাণ। রোহিত শর্মার সঙ্গে ইনিংসের রাশ ধরেন তিনি। অপরদিক থেকে একটু সামলে নিজের ইনিংস চালিয়ে যান রোহিত শর্মা। কমজুরি বল পেলে আক্রমণও করেন তিনি। প্রথম পাওয়ার প্লে ৬ ওভার সেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৪১ রানে ২ উইকেট। পাওয়ার প্লের খুব একটা হিট করার সুযোগগ দিচ্ছিলেন না  কিংস ইলেভেনের বোলাররা। ধীর পার্টনারশিপ গড়ে ন তারা। ১০ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর হয় ৬২ রানে দুই উইকেট।

১০ ওভারের পরও ধীরে পার্টনারশিপ এগিয়ে নিয়ে যান রোহিত শর্মা ও ইশান কিষাণ জুটি। অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও করেন তারা। ১৪ ওভারের শুরুতেই মুম্বইয়ের তৃতীয় উইকেট পড়ে। কষ্ণাপ্পা গৌতমের বলে ২৮ রান করে আউট হন ইশান কিষাণ। ৮৩ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ে মুম্বইয়ের। ১৫ তম ওভারে রবি বিষ্ণোইকে একটি করে ছয় মারেন রোহিত ও পোলার্ড। ১৫ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ১০২ রানে ৩ উইকেট। এরপর বিধ্বংসী ইনিংস খেলা শুরু করেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সরা।  জিমি নিশামের ও ১৬ তম ওভারে আসে ২২ রান। ১৭ তম ওভারের শুরুতেই মহম্মদ আউট হন রোহিত শর্মা। মহম্মদ শামির বলে ৪৫ বলে ৭০ রান করে আউট হন তিনি। ১৭ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১৩০ রানে ৪ উইকেট। ১৮ তম ওভারেও জিমি নিশামের উপর আক্রমণ করেন হার্দিক পান্ডিয়া। রান আসে ১৮ রান। স্কোর দাঁড়ায় ১৪৭ রানে ৪ উইকেট। শামির ১৯ তম ওভারে শামির উপর আক্রমণ করেন হার্দিক ও পোলার্ড। আসে ১৯ রান। ১৯ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর হয় ৪ উইকেট ১৬৬। শেষে ওভারেও ব্য়াটিং তান্ড বজায় রাখেন হার্দিক-পোলার্ড জুটি। শেষ ওভারে কৃষ্ণাপ্পা গৌতমের বলে আসে ২৫ রান। ২০ বলে ৪৭  ও ১১ বলে ৩০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন পোলার্ড ও হার্দিক পান্ডিয়া। 

১৯২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভাল করেন কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের দুই ওপেনার। ৩৮ রানের পার্টনারশিপ করেন কেএল রাহুল ও মায়াঙ্ক আগরওয়াল। কিন্তু পঞ্চম ওভারে পঞ্জাবকে প্রথম ঝটকা দেন জসপ্রীত বুমরা। তার বলে বোল্ড হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরত যান মায়াঙ্ক আগরওয়াল। তিনি করেন ২৫ রান। দ্বিতীয় উইকেটের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি মুম্বইকে। ষষ্ঠ ওভারেই ক্রুণাল পান্ডিয়ার বলে খাতা না খুলেই আউট হয়ে যান করুণ নায়ার। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ৪১ রানে ২ উইকেট। এরপর ইনিংসের রাশ কিছুটা ধরার চেষ্টা করেন কেএল রাহুল ও নিকোলাস পুরাণ জুটি। কিন্তু তাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নবম ওভারে রাহুল চাহারের বলে বোল্ড হয়ে যান কেএল রাহুল। ১৭ রান করেন কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের অধিনায়ক। এরপর ক্রিকেট আসেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অপরদিক থেকে অবশ্য আক্রমণাত্বক ভঙ্গিতেই নিজের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান পুরাণ। ১০ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১০ ওভারে ৭২ রানে ৩ উইকেট।

চতুর্থ উইকেটে একটা পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করেন ম্যাক্সওয়েল ও পুরাণ জুটি। ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যান তারা। নিকোলাস পুরাণ মারার বল পেলে তাতে প্রহারও করতে থাকেন। কিন্তু ১৪ তম ওভারে জেমস প্যাটিনসনের শিকার হন নিকোলাস পুরান। ২৭ বলে ৪৪ রান করে আউট হন তিনি। ১৫ তম ওভারে আরও একটি উইকেট পড়ে পঞ্জাবের। রাহুল চাহরের বলে ১১ রান করে আউট হন ম্যাক্সওয়েল। ১৫ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১০৯ রান।  ১৬ তম ওভারেও উইকেট পড়ে পঞ্জাবের। বুমরার বলে আউট হন জিমি নিশাম। ১৮ তম ওভারের শুরুতে প্যাটিনসন আউট করেন সরফরাজ খানকে। ৭ রান করেন তিনি। ১৮ তম ওভারের শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১২৩ রানে ৭ উইকেট। ১৯ তম ওভারে অষ্টম উইকেটের পড়ে পঞ্জাবের। বোল্টের বলে আউট হন রবি বিষ্ণোই। শেষ ওভার বল করেন বুমরা। কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের ইনিংস শেষ হয় ১৪৩ রানে। ৪৮ রানে ম্যাচে জেতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় জয় পেয়ে খুশি রোহিত শর্মার দল।