আইপিএলে ফের হার চেন্নাইয়ের। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসকে ৭ উইকেটে হারাল রাজস্থান রয়্যালস। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১২৫ রান করে সিএসকে। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান। পরে স্টিভ স্মিথ ও জস বাটলারের অনবদ্য পার্টনারশিপের সৌজন্য ১৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন জস বাটলার। টসে জিতে ব্য়াটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিএসকে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।  কিন্তু শুরুটা ভাল হয়নি সিএসকে। তৃতীয় ওভারেই দলের ১৩ রানের মাথায় আউট হয়ে যান ফর্মে থাকা ফাফ ডুপ্লেসি। জোফ্রা আর্চারের বলে ১০ রান করে আউট হন তিনি। চতুর্থ ওভারে কার্তিক ত্যাগির বলে ৮ রান করে আউট হন শেন ওয়াটসন। পাওয়ার প্লে-তে পরপর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সিএসকে। এরপর ইনিংসের রাশ ধরার চেষ্টা করেন স্যাম কুরান ও অম্বাতি রায়ডু। কিন্তু তারাও ব্শিক্ষণ পার্টনারশিপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। নবম ওভারে ৫৩ রানের মাথায় আউট হন স্যাম কুরান। শ্রেয়স গোপালের বলে ২২ রান করে আউট হন তিনি। দশম ওভারে আউট হন অম্বাতি রায়ডু। রাহুল তেওয়াটিয়ার বলে ১৩ রান করে আউট হন তিনি। ১০ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় ৫৬ রানে ৪ উইকেট। এরপর চেন্নাইয়ের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান এমএস ধোনি ও রবীন্দ্র জাদেজা।

এরপর চেন্নাইয়ের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান এমএস ধোনি ও রবীন্দ্র জাদেজা। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তাদের পার্টনার শিপ। ১৫ ওভার শেষে চেন্নাই সুপার কিংসের স্কোর দাঁড়ায় ৮৯ রানে ৪ উইকেট। শেষ ৫ ওভারে রানের গতিবেগ কিছুটা বাড়ানোর চেষ্টা করেন ধোনি ও জাদেজা। আক্রমণাত্বক শট খেলতেও শুরু করেন দুজন। ১৭ ওভার শেষে ১০০ রান হয় চেন্নাই সুপার কিংসের। ৫০ রানের পার্টনারশিপ পূরণ করেন জাদেজা ও ধোনি। কিন্তু ১৮ তম ওভারে দ্রুত গতিতে রান তুলতে গিয়ে আউট হন এমএস ধোনি। ২৮ রান করে রান আউট হন তিনি। ১৮ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর  দাঁড়ায় ১০৭ রানে ৫ উইকেট। এরপর নামে কেদার যাদব। ১৯ তম ওভারে আসে ১১ রান। শেষ ওভারে বড় হিট করার চেষ্টা করলেও খুব একটা সফল হননি জাদেজা ও কেদার যাদব। ২০ ওভারে ১২৫ রানে শেষ হয় সিএসকের ইনিংস। রাজস্থান রয়্যালসের টার্গেট ১২৬ রান। 

ছোট টার্গেট তাড়া করতে নেমেও শুরুতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান রয়্যালস। এদি রাজস্থানের হয়ে ওপেনিং করতে নামেন বেন স্টোকস ও রবিন উথাপ্পা। তৃতীয় ওভারে ২৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পড়ে রাজস্থানের। দীপক চাহারের বলে ১৯ রান করে আউট হন বেন স্টেকস। চতুর্থ ওভারে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে। হ্যাজেলউটের বলে ৪ রান করে আউট হন রবিন উথাপ্পা। পঞ্চম ওভারে তৃতীয় উইকেট পড়ে রাজস্থানের। খাতা না খুলেই দীপক চাহারের বলে আউট হন সঞ্জু স্যামসন। এরপর ইনিংসের রাশ ধরেন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ও অভিজ্ঞ জস বাটলার। পাওয়ার প্লে-র শেষে রাজস্থানে স্কোর দাঁড়ায় ৩১ রানে ৩ উইকেট। ধীরে রাজস্থানের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান  স্মিথ ও বাটলার জুটি। পরের চার ওভারে কোনও উইকেট পড়েনি রাজস্থানের। তবে ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ বজায় রাখে সিএসকে বোলাররা। ১০ ওভার শেষে রাজস্থান রয়্যালসের স্কোর ৫৯ রানে ৩ উইকেট। 

 

১০ ওভারের পরও নিজেদের পার্টনশিপ এগিয়ে নিয়ে যান স্টিভ স্মিথ ও জস বাটলার জুটি। নিজেদের মধ্যে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও পূরণ করে দুই তারকা ব্যাটসম্যান। একইসঙ্গে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান টার্গেটের কাছে। বিশেষে করে কিছুটা আক্রমণাত্বক ইনিংস খেলেন জস বাটলার। ১৫ তম ওভারে নিজের অর্ধশতরানও পূরণ করেন জস বাটলার। ৩৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। এরপরই রানের গতিবেগ বাড়ানো শুরু করেন বাটলার। ১৫ ওভার শেষে রাজস্থান রয়্যালসের স্কোর দাঁড়ায় ১০৮ রানে ৩ উইকেট। স্টিভ স্মিথ ও জস বাটলারের পার্টনারশিপের সৌজন্যে জয়ের দোড়গোড়ায় পৌছে যায় রয়্যালসরা। নিজের আক্রমণাত্ব ব্যাটিং চালিয়ে যান বাটলার। ১৭ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ১২৪ রানে ৩ উইকেট।  ১৮ তম ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় রাজস্থান। ১৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় স্টিভ স্মিথের দল। ৭০ রানে অপরাজিত থাকেন জস বাটলার ও ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন স্টিভ স্মিথ। এই জয়ের ফললে লিগ টেবিলে ৫ নম্বর স্থানে উঠে এল রাজস্থান রয়্যালস। অপরদিকে, একেবারে শেষে ৮ নম্বরে নেমে গেল ধোনির সিএসকে।