ব্লেড লাগানো তারই কি ডেকে আনল বিপদ? চা-বাগানে ঢুকে বেঘোরে প্রাণ গেল একটি পূর্ণবয়ষ্ক বাইসনের। ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার করেছে বনদপ্তর। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির বানারহাটে।

আরও পড়ুন: ফের নেওড়াভ্যালির জঙ্গলে দেখা মিলল বাঘের, ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ল ছবি

তখন প্রায় ভোররাত। বানারহাটের তোতপাড়া চা বাগানে তিনটি বাইসনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন শ্রমিকরা। বেলার দিকে দুটি বাইসন চা-বাগান লাগোয়া জঙ্গলে চলে যায়। কিন্তু একটি বাইসন আর ফিরতে পারেনি। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বাগানের ২৩ নম্বর সেকশনে নালায় পড়ে যায় সে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ওয়ার্ডেন(বন্যপ্রাণ) সীমা চৌধুরী, বিন্নাগুড়ি রেঞ্জার অর্ঘ্যদীপ রায়-সহ বনদপ্তরের কর্মীরা ও পুলিশ। শেষরক্ষা হয়নি। বনকর্মীরা যখন ঘুমপাড়ানি গুলি ছোঁড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন দেখা যায়, বাইসনটি মারা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, দেহটিও রীতিমতো ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: লকডাউনে পুর কর জমা করলে বিশেষ ছাড়, বড় ঘোষণা শিলিগুড়ির মেয়রের

জানা গিয়েছে, ডুয়ার্সের চা বাগানের ভিতরে এলাকা ভাগ করার জন্য তার ব্যবহার করা হয়। সেই তারে আবার লাগানো থাকে ব্লেড। বনদপ্তরের প্রাথমিক অনুমান, ব্লেডের আঘাতে গুরুতর জখম হয় বাইসনটি এবং নালায় পড়ে যায়। বনদপ্তরের ওয়ার্ডেন(বন্যপ্রাণ) সীমা চৌধুরী বলেন, চা বাগানে ব্লেড লাগানো তারের আঘাতে বন্যপ্রাণীদের মৃত্যু হচ্ছে। দিন কয়েক আগে বনমন্ত্রী নিজে তার খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হয়নি।  কয়েক মাসে সাতসকালে বাইসনের তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল জলপাইগুড়ি ধুপগুড়িতে। জখম হন ৯ জন। বাইসনটিকে বাগে আনতে গিয়ে নাজেহাল হতে হয় বনকর্মীদেরও। শেষপর্যন্ত ঘুমপাড়ানি গুলি ছুঁড়ে কোনওমতে তাকে কাবু করা হয়।