লকডাউনের বাজারে শাসকদলের বিরুদ্ধে রেশনের সামগ্রী লুটের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। আর এবার বিজেপি কার্যালয়েই মিলল চালের বস্তা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ির বানারহাটে। দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ, শোকজ করা হয়েছে স্থানীয় রেশন ডিলারকে। ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন: জলপাইগুড়িতে করোনা আক্রান্ত অ্যাম্বুল্যান্স চালক, কোয়ারান্টাইনে দুই পুলিশ অফিসার সহ ৫

করোনাকে বাগে আনা যাচ্ছে না, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। আপাতত লকডাউন প্রত্যাহারের কোনও সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যাঁদের বিপিএল কার্ড আছে, তাঁদের রেশন থেকে ছয়মাস বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তাতে কি আদৌও লাভ হচ্ছে? বরং ত্রাণ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। প্রাপ্য খাদ্য সামগ্রী না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির বানারহাটে বিজেপি কার্যালয়ে অভিযান চালান ফুড ইন্সপেক্টর। উদ্ধার হয় বস্তাবন্দি কয়েকশো কুইন্টাল চাল। কী ব্য়াপার? স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান ও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতির অভিযোগ, রেশন ডিলার তাঁর বরাদ্দের পুরোটা চালটাই নাকি বিজেপিকে দিয়ে দিয়েছেন! ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রেশন দোকান থেকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। রাজ্যের শাসকদলের বানারহাট সাংগঠনিক ব্লক সভাপতি নয়ন দত্ত বলেন, বিজেপি এই মহামারিতেও যে রাজনীতি করছে এই ঘটনা তার প্রমাণ। দলের কর্মীরা গ্রামে প্রচার করছেন যে, ওই খাদ্যসামগ্রী মোদিজি পাঠিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: দিল্লি সফরে 'বিপদ' বাড়ছে, করোনা সংক্রমিত আরও এক আরপিএফ জওয়ান

আরও পড়ুন: ফুটপাতে রোগী ফেলে পালানোর চেষ্টা পিপিই বেশধারী স্বাস্থ্যকর্মীদের, দেখুন ভিডিও

এদিকে এই ঘটনার দায় নিতে নারাজ বিজেপি-র জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি। তাঁর সাফ কথা, যে ঘর থেকে চাল উদ্ধার হয়েছে, সেই ঘরটি লোকসভা নির্বাচনের সময়ে বিজেপিরই কার্যালয় ছিল। তবে পরবর্তীকালে ঘরটি ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দলের পতাকা আর মোদির ছবি সরানো হয়নি।  ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা খাদ্য আধিকারিক অমৃত ঘোষ।